দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের হাইড পার্কে অবস্থিত একটি উচ্চমানের বাসস্থানে গুলি চালানোর অভিযোগে রবের্ট মুগাবের কন্যা বেল্লারমিন মুগাবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী বেল্লারমিন, যিনি জিম্বাবুয়ের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রবের্ট মুগাবের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান, গৃহে ঘটিত গুলিবিদ্ধের সন্দেহে পুলিশ হাতে নেয়া হয়।
গুলির শিকার ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যাকে গার্ডেনার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; তিনি একবার গুলি প্রয়োগে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তার অবস্থার গুরুতরতা এখনও বজায় আছে।
হাইড পার্কের বাড়িতে অনুসন্ধান চলাকালে পুলিশ গুলি কেসেটের সন্ধান পায়, তবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আরেকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাকে এখনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের মুখপাত্র কল ডিমাকাটসো নেভহুহুলুই জানান, দুজন সন্দেহভাজন গুলি কোথায় লুকিয়ে আছে তা প্রকাশ করছেন না এবং অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উভয় সন্দেহভাজনকে শীঘ্রই আদালতে হাজির করা হবে।
বেল্লারমিন মুগাবের গ্রেফতার সম্পর্কে এখনও কোনো সরকারি ঘোষণায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখেছেন এবং স্থানীয় মিডিয়া তাকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে।
রবের্ট মুগাব, যিনি ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন, ৩৭ বছর জিম্বাবুয়ে শাসন করেন এবং ২০১৭ সালে ৯৩ বছর বয়সে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পরেও তার পরিবারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারির মুখে দেখা যায়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তের ধারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গুলির অস্ত্রের সন্ধানে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু করেছে। গুলিবিদ্ধের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায়, তার পরিবার ও নিকটজনদের জন্য উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
এই মামলায় জড়িত দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা এবং গুলিবিদ্ধের জীবন রক্ষার জন্য যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর রয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ায় এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে মুগাব পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তবে, বর্তমান পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
পুলিশের মতে, গুলির অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে সন্দেহভাজনরা কোনো তথ্য দিচ্ছেন না, ফলে অতিরিক্ত অনুসন্ধান এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে। গুলিবিদ্ধের অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায়, চিকিৎসা সংস্থাগুলোও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
মামলাটি শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুগাব পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



