জোহানসবার্গের হাইড পার্কে অবস্থিত একটি উচ্চমানের বাসস্থানে গুলিবর্ষণের পর, ২৮ বছর বয়সী বেলারমিন মুগাবকে গৃহস্থ গুলির উদ্দেশ্যভিত্তিক অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ ফেব্রুয়ারি, যখন স্থানীয় পুলিশকে গুলির শব্দ শোনা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলির লক্ষ্য ছিল ২৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যাকে গার্ডেনার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; তিনি গুলি পেয়ে আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। গুলি চালানোর সময়ের সুনির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পুলিশ সূত্রে ঘটনাটি সন্ধ্যাবেলায় ঘটেছে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, আহত ব্যক্তিকে জরুরি সেবা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায় এবং গুলিবর্ষণস্থলটি ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করে। তদন্তকালে হাইড পার্কের বাড়ির আশেপাশে গুলি-চাপের খোলস পাওয়া যায়, তবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
আহত গার্ডেনারকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তার অবস্থার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। গুলির ক্ষতি তার শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক প্রভাবও ফেলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বেলারমিন মুগাবের পাশাপাশি আরেকজন পুরুষকেও একই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; উভয়কে গুলি চালানোর সন্দেহে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্রে জানা যায় তারা উভয়েই মুগাবের সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে গুলি-চাপের খোলসের পাশাপাশি কিছু গুলি-ধ্বংসাবশেষও সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে গুলি-ধারী অস্ত্রের কোনো চিহ্ন পাওয়া না যাওয়ায় তদন্তের দিক পরিবর্তিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত সাক্ষী ও সিসিটিভি রেকর্ডের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে।
বেলারমিন মুগাব, রবার্ট ও গ্রেস মুগাবের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র, ২০১৯ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে ফিরে এসেছে। তিনি পূর্বে জিম্বাবুয়েতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
রবার্ট মুগাব, জিম্বাবুয়ের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, ১৯৭০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৩৭ বছর শাসন চালিয়ে গেছেন; ২০১৯ সালে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অর্থনৈতিক মন্দার অভিযোগ উঠে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কঠোর সমালোচনা পেয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে। বেলারমিন মুগাবকে গুলি চালানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা (attempted murder) এর অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রাখে।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ অতিরিক্ত সাক্ষী, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গুলি-ধ্বংসাবশেষের ফরেনসিক রিপোর্ট ব্যবহার করবে। যদি আদালত গুলি-ধারী অস্ত্রের উপস্থিতি বা গুলির উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাটিকে “গুরুতর অপরাধ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জোহানসবার্গের স্থানীয় পুলিশ প্রধানও উল্লেখ করেছেন যে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের হস্তক্ষেপ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মুগাব পরিবারের আন্তর্জাতিক অবস্থান আবার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে, তদন্তের মূল দিক হল গুলি চালানোর প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্ব নির্ধারণ করা, যা আদালতের রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



