সিপিডি‑এর সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত এক ব্রিফিং‑এ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত বিদেশি চুক্তিগুলোর পুনঃপর্যালোচনা দাবি করেন। এই অনুষ্ঠান ঢাকা মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক থিমে অনুষ্ঠিত হয়।
দেবপ্রিয় উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকার শেষ হওয়ার আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী চুক্তি সম্পাদন করেছে। এসব চুক্তি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি ছাড়াও অজানা ক্ষেত্রের চুক্তি রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতা কম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকারকে এই চুক্তিগুলোর শর্ত ও দায়‑দায়িত্ব পুনরায় যাচাই করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অপ্রত্যাশিত আর্থিক বোঝা না থাকে।
দেবপ্রিয়ের মন্তব্যের পটভূমি হল ২৪ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান হিসেবে তার ভূমিকা। তিনি বলেন, “যেহেতু এলডিসি গ্রাজুয়েশন পুনর্মূল্যায়নের কথা চলছে, তেমনি এই বিদেশি চুক্তিগুলোকেও পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনা করা দরকার।”
ব্রিফিংয়ে নতুন সরকারের ১৮০‑দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। দেবপ্রিয় নতুন সরকারের প্রতি ধৈর্যধারণের পরামর্শ দেন এবং চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তিনি আর্থিক নীতি প্রণয়নে সংযমের আহ্বান জানান, “একটু বাস্তবসম্মত হন, রাষ্ট্রনায়কোচিতভাবে এগোতে হবে।”
দেবপ্রিয়ের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ ও দায়‑দেনার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব সংগ্রহের হ্রাস, চলতি ব্যয় সংকোচনে ব্যর্থতা এবং এডিপি (EDP)‑এর কোনো সামঞ্জস্য বিধান না করা এই অবনতির মূল কারণ হতে পারে। এছাড়া, তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি যে ঋণ পরিস্থিতি পেয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে গৃহীত নীতির ফলে আরও দুর্বল ও নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেবপ্রিয়ের বক্তব্যে মূল্যস্ফীতি সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত উল্লেখ থাকে। তিনি ইঙ্গিত করেন, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
ব্রিফিং শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা দেবপ্রিয়ের পরামর্শে সম্মত হন যে, নতুন সরকারকে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা উচিৎ। এদিকে, সিপিডি‑এর গবেষণা দল এই অর্থবছরের বাকি সময়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে, যা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিদেশি চুক্তির পুনঃপর্যালোচনা, ঋণ‑দায়ের অবস্থা বিশ্লেষণ এবং আর্থিক নীতি সংযমের মাধ্যমে নতুন সরকারের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক পথচিত্র প্রস্তাব করেন। তার এই আহ্বান সরকারকে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে দেশের আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



