অভিনেত্রী ও লেখক ডানাই গুরিরা সম্প্রতি রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই ছবিটি তাকে তার প্রথম থিয়েটার অভিজ্ঞতার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে, যা তিনি পাঁচ বছর বয়সে ‘ই.টি.’ দেখার সময় পেয়েছিলেন। গুরিরা বলেন, এই অনুভূতি সিনেমার সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সংযোগের মূল ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
ডানাই গুরিরা শৈশবে প্রথমবার সিনেমা হলে গিয়ে ‘ই.টি.’ দেখেছিলেন, যখন তিনি মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ছিলেন। সেই সময়ের পপকর্নের গন্ধ, নীল স্নিকার্সের স্মৃতি বা সঙ্গে থাকা বাবা-মা তার মনে পরিষ্কার নয়, তবে ছবির প্রতি তার গভীর আবেগ স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে। তিনি সেই মুহূর্তে অদ্ভুত এক এলিয়েনের প্রতি মিশ্র অনুভূতি—ভালবাসা, ভয়, ব্যথা এবং আনন্দ—অনুভব করেন, যা তার সিনেমা প্রেমের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
বছরের পর বছর পর, গুরিরা রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ দেখার পর একই রকম তীব্র অনুভূতি পুনরায় অনুভব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চলচ্চিত্রটি তার জীবনের একমাত্র অন্য কোনো সময়ের মতো গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা তিনি পাঁচ বছর বয়সে ‘ই.টি.’ দেখার সময় পেয়েছিলেন। গুরিরা বলেন, ‘সিনার্স’ দেখার সময় তিনি আবারও সেই শিশুর মতো স্ক্রিনের সামনে মুগ্ধ হয়ে গেছেন, যেখানে সবকিছুই নতুন এবং অদ্ভুত।
‘সিনার্স’ বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মধ্যে বড় সাড়া ফেলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। গুরিরা উল্লেখ করেন, যদিও তিনি ছবির নির্মাণে অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তবু তিনি সাধারণ দর্শকের মতো অন্ধকার ঘরে বসে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবু তিনি স্বীকার করেন, ছবির প্রভাব তার উপর গভীরভাবে ছাপিয়ে গেছে, যা তাকে আবারও সিনেমার জাদুতে মুগ্ধ করেছে।
ডানাই গুরিরা এই অভিজ্ঞতাকে তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘সিনার্স’ তাকে আবারও সেই পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মতো করে তুলেছে, যিনি প্রথমবার স্ক্রিনে কিছু অদ্ভুত দেখেছিলেন। তিনি চলচ্চিত্রের গল্প, চরিত্রের গভীরতা, পরিচালকের ঝুঁকি নেওয়া এবং চিত্রনাট্যের মৌলিকত্বকে প্রশংসা করেন, যা দর্শকের বুদ্ধি ও অনুভূতিকে সম্মান করে।
গুরিরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রকে নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা তাকে বিরক্ত করে। তিনি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানান, দর্শক ও সমালোচকদের ‘সিনার্স’কে কোনো লেবেল বা সীমাবদ্ধতার মধ্যে না ফেলা উচিত, বরং তার স্বতন্ত্রতা ও সৃষ্টিশীলতাকে স্বীকার করা দরকার। তার মতে, সিনেমা এমন একটি শিল্প যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণকে একত্রিত করে, এবং তা একক শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ করা তার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ন করে।
ডানাই গুরিরা শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, ‘সিনার্স’ তার জন্য শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং সিনেমার প্রতি তার প্রাথমিক প্রেমের পুনরাবৃত্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও এমন কাজ তৈরি হবে যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করবে এবং তাদেরকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। গুরিরা এই অনুভূতি ও প্রত্যাশা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের বহুমুখিতা ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছেন।



