রিং কোম্পানির সিইও জেমি সিমিনফের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি Search Party ফিচারকে কুকুরের সন্ধানের বাইরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। এই ইমেইলটি অক্টোবর মাসে লেখা হয়েছিল, যখন Search Party প্রথম চালু হয়েছিল। ফিচারটি চালু হওয়ার পরই ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ দেখা দেয়। সিমিনফের মেইলটি কোম্পানির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
Search Party মূলত রিং ক্যামেরা নেটওয়ার্কের সংযুক্ত ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া কুকুরের অবস্থান নির্ণয় করে। ক্যামেরাগুলো রিয়েল-টাইমে ভিডিও স্ট্রিম শেয়ার করে, যা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। সিমিনফের মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ ধরনের সম্প্রসারণের জন্য ক্যামেরা ডেটা বিশ্লেষণ ও মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের ব্যবহার প্রয়োজন।
ইমেইলে “পাড়া থেকে অপরাধ শূন্য করা” কথাটি বিশেষভাবে দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যদিও এটি শুধুমাত্র একটি দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোম্পানির আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নয়, তবু এই ধরনের লক্ষ্য প্রকাশ করা প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। সিমিনফের মতে, ভবিষ্যতে রিংয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নীতি ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
রিং সম্প্রতি “Familiar Faces” নামে একটি ফিচার চালু করেছে, যা ক্যামেরা ফ্রেমে প্রবেশ করা ব্যক্তির মুখ স্বীকৃতি দিয়ে চিহ্নিত করে। এই ফিচারটি মুখের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ডেটাবেসের সঙ্গে তুলনা করে পরিচয় নিশ্চিত করে। যদি Search Party এর ডেটা বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সন্ধান দ্রুততর হতে পারে। তবে মুখের স্বীকৃতি প্রযুক্তি গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপন করে।
সিমিনফের আরেকটি ইমেইলে রিংয়ের “Community Requests” ফিচার উল্লেখ করা হয়েছে, যা পুলিশকে ক্যামেরা মালিকদের কাছ থেকে ফুটেজ সংগ্রহের সুযোগ দেয়। এই সেবা রিং এবং পুলিশ টেক কোম্পানি Axon এর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পুলিশ একটি অনুরোধ পাঠালে, রিং ব্যবহারকারীরা স্বেচ্ছায় তাদের ক্যামেরা রেকর্ডিং শেয়ার করতে পারেন। সিমিনফের মতে, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত তদন্তে সহায়তা করতে পারে।
ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, একই পদ্ধতি ব্যবহার করে উচ্চপ্রোফাইল মামলায়, যেমন চার্লি কির্কের হত্যাকাণ্ডে, সন্দেহভাজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। যদিও এই উদাহরণটি কাল্পনিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবু এটি ফিচারের সম্ভাব্য প্রয়োগের দৃষ্টান্ত দেয়। সিমিনফের মন্তব্যে তিনি ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলেছেন। তবে এই ধরনের ব্যবহার এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
রিং এই ফিচারগুলোর সম্প্রসারণের জন্য Flock Safety নামের একটি নজরদারি প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা করেছে। Flock Safety রাস্তা-দ্বার পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা সরবরাহ করে, যা রিংয়ের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এই সংযুক্তি বৃহত্তর এলাকায় রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ সক্ষম করবে। ফলে সম্ভাব্য অপরাধের পূর্বাভাস ও দ্রুত সাড়া দেওয়া সহজ হবে।
সংযুক্ত সিস্টেমের মাধ্যমে রিং ক্যামেরা নেটওয়ার্ক এবং Flock Safety এর ডেটা একত্রে বিশ্লেষণ করা হলে, পাড়া-ভিত্তিক অপরাধ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে, ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ও মুখের স্বীকৃতি ডেটা একসাথে প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। এই ধরনের সমন্বয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে। তবে বাস্তবায়নের আগে ডেটা সুরক্ষা ও ব্যবহার নীতিমালা স্পষ্ট করা জরুরি।
গোপনীয়তা সংরক্ষণে উদ্বেগ প্রকাশকারী নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী এই পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, ডেটা সংগ্রহের পরিধি ও সংরক্ষণ সময় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়া



