কানাডার সর্ববৃহৎ সঙ্গীত পুরস্কার জুনো ২০২৬-এ ফোক গানের কিংবদন্তি জোনি মিচেলকে আজীবন সাফল্য পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। অনুষ্ঠানটি ২৯ মার্চ অন্টারিওর হ্যামিল্টন শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের সঙ্গীত জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য শিল্পী সারা ম্যাকলাখলান ও রুটস গায়িকা অ্যালিসন রাসেল মিচেলের জন্য বিশেষ ট্রিবিউট পারফরম্যান্সে অংশ নেবেন। দুইজনই মিচেলের জনপ্রিয় গান যেমন “Both Sides Now” ও “Big Yellow Taxi” নিজস্ব শৈলীতে গাইবেন, যা দর্শকদের মধ্যে স্মৃতির স্রোত তৈরি করবে।
কানাডিয়ান একাডেমি অফ রেকর্ডিং আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের প্রকাশিত বিবৃতিতে মিচেলকে “কানাডার অন্যতম প্রভাবশালী ও স্থায়ী সৃজনশীল কণ্ঠ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সংস্থা উল্লেখ করেছে যে তার সঙ্গীতিক অবদান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
মিচেল তার ক্যারিয়ারে দশটি গ্র্যামি ও পাঁচটি জুনো জিতেছেন, এবং ১৯৬০‑৭০ দশকে বব ডিলান ও লিওনার্ড কোহেনের সঙ্গে বিশ্ব সঙ্গীতের শীর্ষে ছিলেন। তার গীতিকবিতা, স্বতন্ত্র গিটার শৈলী এবং পরিবেশগত বার্তা সমৃদ্ধ রচনাগুলি আজও বহু শিল্পীর অনুপ্রেরণা।
১৯৮১ সালে তিনি কানাডিয়ান মিউজিক হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন, আর ১৯৯৭ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেমে প্রবেশ করেন। এই স্বীকৃতিগুলি তার সঙ্গীতের দীর্ঘায়ু ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রমাণ।
দুই দশকের পর প্রথমবারের মতো তিনি ২০২২ নিউপোর্ট ফোক ফেস্টিভ্যালে অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি দিয়ে লাইভ পারফরম্যান্সে ফিরে আসেন। এই পারফরম্যান্সে তিনি তার ক্লাসিক গানের সঙ্গে নতুন রঙ যুক্ত করে ভক্তদের আনন্দে ডুবিয়ে দেন।
অক্টোবর ২০২৪-এ হলিউড বোল-এ তিনি লস এঞ্জেলেসে প্রায় ত্রিশ বছর পর প্রথম কনসার্ট দেন, যেখানে তিনি ৪০ মিনিটের একটি সেটে বহু হিট গানের মিশ্রণ উপস্থাপন করেন। এই কনসার্টটি তার সঙ্গীতের পুনর্জাগরণকে চিহ্নিত করেছে এবং মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
এই বছরের জুনোর ৫৫তম সংস্করণটি মেয় মার্টিনের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং হ্যামিল্টন শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে লাইভ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টেলিভিশন সম্প্রচারে দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে।
ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে যে জাস্টিন বিবার ও টেট ম্যাকরেই জুনো নোমিনেশনের শীর্ষে রয়েছেন, এবং তাদের কাজের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি পাবেন। এই তথ্যটি মিচেলের সম্মাননা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জুনোর সামগ্রিক গৌরবকে তুলে ধরেছে।
মিচেলের সমৃদ্ধ সঙ্গীত সংগ্রহ নতুন প্রজন্মের শোনার জন্য উপযুক্ত, তাই তার ক্লাসিক অ্যালবামগুলো পুনরায় শুনে সঙ্গীতের গভীরতা অনুভব করার পরামর্শ দেওয়া যায়। তার গানের বার্তা ও সুরের সৌন্দর্য আজও সমসাময়িক সমাজে প্রাসঙ্গিক, যা শোনার মাধ্যমে সৃজনশীল অনুপ্রেরণা জাগ্রত করতে পারে।



