এলন মাস্কের নেতৃত্বে স্পেসএক্স এবং এক্সআইএআই এই মাসের শুরুর দিকে একত্রিত হয়ে কক্ষীয় ডেটা সেন্টার হিসেবে কাজ করবে এমন এক মিলিয়ন স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনার লক্ষ্য হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গণনা ক্ষমতা বাড়িয়ে পৃথিবীর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো।
মার্জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসারে, স্পেসএক্স এবং এক্সআইএআই একই সময়ে ১,০০০,০০০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে সেগুলোকে কক্ষীয় ডেটা সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করবে। এই স্যাটেলাইটগুলোকে একত্রে একটি বৃহৎ গুচ্ছ হিসেবে স্থাপন করা হবে, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) কাজ করবে।
এলন মাস্কের মতে, মহাকাশে সোলার প্যানেল ব্যবহার করলে শক্তি সংগ্রহের দক্ষতা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় বাধা ছাড়াই সর্বোচ্চ হয়। মেঘ বা বৃষ্টির মতো আবহাওয়া উপাদান না থাকায় সূর্যালোকে সরাসরি প্রবেশের সময় বাড়ে, ফলে স্যাটেলাইটের প্যানেলগুলো দিনের বেশিরভাগ সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
এছাড়া, স্পেসএক্সের রকেট লঞ্চের খরচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বৃহৎ স্কেলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আর্থিক সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে, পৃথিবীর উপর অবস্থিত AI ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যয় বাড়তে থাকায়, স্পেসএক্সের পরিকল্পনা তিন বছরের মধ্যে মহাকাশকে AI গণনার সবচেয়ে সস্তা উৎস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
স্পেসএক্স ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনে (FCC) আট পৃষ্ঠার একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে, যেখানে স্যাটেলাইটগুলো ৫০০ কিলোমিটার থেকে ২,০০০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে স্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ আছে। এই উচ্চতা সীমা কক্ষীয় ডেটা সেন্টারের কার্যকরী পরিসর এবং যোগাযোগের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত।
প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কের স্যাটেলাইটগুলো একে অপরের সঙ্গে লেজার‑ভিত্তিক “অপটিক্যাল লিঙ্ক” ব্যবহার করে ডেটা আদানপ্রদান করবে। এই লেজার সংযোগের মাধ্যমে স্পেসএক্সের বিদ্যমান স্টারলিংক কনস্টেলেশনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তি হবে, ফলে পৃথিবী থেকে স্যাটেলাইটে এবং সেখান থেকে পুনরায় ডেটা প্রেরণ সহজ হবে।
স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো ইনফারেন্স রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে কক্ষীয় ডেটা সেন্টারে প্রেরণ করবে, এবং ফলাফল আবার পৃথিবীর ব্যবহারকারীর কাছে পাঠাবে। এভাবে AI মডেলের প্রশিক্ষণ ও চালনা প্রক্রিয়া সরাসরি মহাকাশে সম্পন্ন হতে পারে, যা বিদ্যুৎ খরচ ও লেটেন্সি কমানোর সম্ভাবনা রাখে।
পরিকল্পনার স্কেল ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে এক মিলিয়ন স্যাটেলাইটের গুচ্ছ নিম্ন কক্ষপথের কক্ষীয় বর্জ্য (ডেব্রিস) সমস্যাকে তীব্রতর করতে পারে এবং কক্ষীয় পরিবেশের টেকসইতা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হল মহাকাশে GPU‑এর তাপ অপসারণ। শূন্যস্থানে তাপমাত্রা -৪৫০°F (প্রায় -২৭০°C) হলেও, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তাপের বিকিরণই একমাত্র শীতলকরণ পদ্ধতি। এই শর্তে উচ্চ পারফরম্যান্সের GPU‑কে কার্যকরভাবে ঠান্ডা রাখা কঠিন হতে পারে, যা সিস্টেমের স্থায়িত্বে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন যে কক্ষীয় ডেটা সেন্টার ধারণা সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়, তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন মাত্রা ও সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, যদি এই প্রকল্পটি নির্ধারিত স্কেলে সম্পন্ন হয়, তবে তা পরিবেশ ও কক্ষীয় ট্রাফিকের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
এলন মাস্কের মতে, আগামী তিন বছরের মধ্যে মহাকাশে AI গণনা ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে এবং তা পৃথিবীর বিদ্যুৎ ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। তবে প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সমাধান ছাড়া এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।



