ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) গত বৃহস্পতিবার একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ১৩তম জাতীয় পার্লামেন্টারী নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে রেকর্ড করা ভিডিওগুলো সংরক্ষণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় হলে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার নিশ্চিত করা।
চিঠিটি ইসিসি সেক্রেটারিয়েটের ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোনির হোসেনের স্বাক্ষরে প্রস্তুত করা হয় এবং দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারকে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যেক রিটার্নিং অফিসারকে এই নির্দেশনা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজের সংরক্ষণে কোনো দেরি না করা উচিত।
সংরক্ষণযোগ্য ভিডিওগুলোতে ভোটের এক দিন পূর্বে এবং ভোটের দিন উভয় সময়ের রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই দুই দিনের ফুটেজ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিটি সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে তাদের অফিসে এই ভিডিওগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণের পদ্ধতি ও সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো আইনগত বা নির্বাচনী বিরোধের ক্ষেত্রে এই ফুটেজগুলো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চিঠিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদেরকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে ভিডিও ফাইলের ব্যাকআপ, নিরাপদ স্টোরেজ মিডিয়া এবং যথাযথ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত।
এই নির্দেশনা পূর্বে ইসিসি কর্তৃক জারি করা অনুরূপ আদেশের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্ববর্তী আদেশগুলোতে নির্বাচনের সময় রেকর্ডিং সংরক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে, যা এই নতুন নির্দেশনার ভিত্তি গঠন করে।
দেশব্যাপী সকল নির্বাচনী কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ একইভাবে সংরক্ষণ করা হবে, ফলে কোনো অঞ্চল বা জেলা বিশেষে ব্যতিক্রম থাকবে না। এই সমন্বিত পদ্ধতি নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা বাড়াবে।
ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, সংরক্ষিত ফুটেজগুলোকে প্রয়োজনীয় হলে আদালত, নির্বাচন পর্যবেক্ষক বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে প্রদান করা হতে পারে। এভাবে প্রমাণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসিসি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে চায়। সিসিটিভি রেকর্ডিংকে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ বা বিতর্কের সমাধানে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোও এই নির্দেশনা সম্পর্কে জানার পর নিজেদের পর্যবেক্ষণ দলকে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। ফলে নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
ইসিসি এই সিদ্ধান্তকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সিসিটিভি রেকর্ডিং সংরক্ষণে জোর দিয়ে নির্বাচন কমিশন তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পূরণ করতে চায়।
অবশেষে, ইসিসি সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সরবরাহে প্রস্তুত থাকবেন।



