23 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান-রাশিয়া যৌথ নৌমহড়ায় বন্দর আব্বাসে জাহাজ উদ্ধার

ইরান-রাশিয়া যৌথ নৌমহড়ায় বন্দর আব্বাসে জাহাজ উদ্ধার

ইরান ও রাশিয়ার সমন্বিত নৌবাহিনী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসের উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে জলদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। জাহাজটি হঠাৎ জরুরি সংকেত পাঠায়, যা রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার থেকে গ্রহণ করা হয়। অপারেশনটি মক (কৃত্রিম) মহড়া হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও বাস্তব সময়ে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং দস্যুদের গ্রেফতার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

সঙ্কেত পাওয়ার পর ইরান ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজ দ্রুত সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হয়। ইরানের আলভান্দ ডেস্ট্রয়ার, পাশাপাশি নেইজেহ ও খানজার নামের দুইটি মিসাইল বোট অপারেশনে অংশ নেয়। রাশিয়ার সমর্থনকারী হেলিকপ্টার দলও একই সময়ে জাহাজের পাশে অবস্থান করে, যা সমন্বিত আক্রমণের ভিত্তি গঠন করে।

অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল দস্যুদের দ্বারা দখল করা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পুনরুদ্ধার এবং সমুদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা। হেলিকপ্টার থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে যুদ্ধজাহাজগুলো জাহাজের চারপাশে গঠন করে, এরপর দ্রুত সাঁড়াশি চালিয়ে দস্যুদের অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ইরান-রাশিয়া নৌবাহিনীর হাতে ফিরে আসে এবং দস্যুদের গ্রেফতার করা হয়।

এই মক অপারেশনটি উভয় দেশের সমুদ্রযুদ্ধ কৌশল ও সমন্বয় ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় পক্ষই এই ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

অপারেশনটি ঘটার সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনায় টানাপোড়েন বাড়ছে। জেনেভায় পরোক্ষভাবে চলমান আলোচনার পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরানের কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমুদ্র নিরাপত্তা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ইরান-রাশিয়া যৌথ নৌমহড়া শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য রক্ষার জন্য কূটনৈতিক সংকেতও বহন করে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের সমন্বিত অপারেশন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য সতর্কতা সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।”

অভিযানের সফল সমাপ্তি ইরান-রাশিয়া সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় দেশই পরবর্তী মাসে আরও বৃহত্তর পরিসরের যৌথ নৌ প্রশিক্ষণ এবং সমুদ্র রেসকিউ সমন্বয় কেন্দ্রের কার্যক্রম বাড়ানোর কথা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগগুলো আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

বন্দর আব্বাসে অনুষ্ঠিত এই মক অপারেশন ইরান-রাশিয়া সমুদ্র কৌশলের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে সমুদ্র সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক নৌচলাচলকে আরও স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এই ধরনের যৌথ উদ্যোগের ফলাফল ও প্রভাবের দিকে থাকবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি ও পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments