ঢাকার ভাসানটেক এলাকায় রমজান মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান একসাথে ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটি কর্পোরেট ও সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪টি এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসায় পুরো মাস জুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরি সরবরাহের পরিকল্পনা অনুসরণ করে আজ অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতারটি ভাসানটেকের কড়াইল বস্তি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত এতিমখানাগুলোর শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের জন্য আয়োজন করা হয়। উপস্থিতদের মধ্যে বহু সন্তানহীন মা, বৃদ্ধা এবং অনাথ শিশুরা ছিলেন, যারা রোজা ভাঙার জন্য একত্রিত হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান ইফতার পূর্বে উপস্থিত সবাইকে একত্রে দোয়া ও নামাজে অংশ নিতে আহ্বান জানান। এরপর সবাই মিলিতভাবে খাবার গ্রহণ করেন, যা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও দাতাদের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
ইফতার শেষে জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের প্রশ্ন শোনেন এবং রমজানের গুরুত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেন। শিশুরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করে, যা তিনি ধৈর্য্যপূর্ণভাবে উত্তর দেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারীদের সাথেও জাইমা ও তার মা আলাপ করেন। তারা নারীদের রমজানকালে সম্মুখীন চ্যালেঞ্জ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতে সমর্থন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি জানান।
এই ইফতার আয়োজনের পেছনে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসায় মাসব্যাপী খাবার সরবরাহের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রমজান শেষে পর্যন্ত প্রতিদিনের ইফতার ও সেহরির খাবার নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এই ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে চলেছে, যা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। অতীতে একই পরিবার বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে যুক্ত ছিল, যেমন গত মাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার দান।
অবসরপ্রাপ্ত ও সক্রিয় রাজনীতিবিদদের মন্তব্যে দেখা যায়, এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধী দলও এই কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে উল্লেখ করে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, রমজানকালে এমন দানমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করা সাধারণ রাজনৈতিক কৌশল। তবুও, অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি উপকারভোগী হওয়ায় এই উদ্যোগের বাস্তবিক প্রভাব ইতিবাচক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইফতার অনুষ্ঠানের পর ডা. জুবাইদা ও জাইমা রহমান উপস্থিত সকলের সঙ্গে বিদায় জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত দানমূলক কাজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, রমজানের শেষের দিকে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দরকার, যাতে দরিদ্র ও অসহায়দের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।
স্থানীয় প্রশাসনও এই দাতব্য উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এদিকে, অংশগ্রহণকারী পরিবার ও শিশুদের মুখে আনন্দের ছাপ দেখা যায়, যা সামাজিক সংহতির একটি স্পষ্ট চিত্র উপস্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. জুবাইদা ও জাইমা রহমানের ভাসানটেকে ইফতার অনুষ্ঠান রমজানের পবিত্রতা ও মানবিক সহায়তার মিশ্রণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাইলফলক হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।



