১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সমাজকল্যাণ ও নারী‑শিশু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল বিষয় ছিল মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে যেসব প্রকল্প কাজের মধ্যে রয়েছে সেগুলো কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
সভা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ সভা হিসেবে আয়োজিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় হয়। উভয় নেতার লক্ষ্য ছিল জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া।
মন্ত্রীর মতে, মন্ত্রণালয়ের মূল নীতি হল মানুষের কল্যাণে সেবা প্রদান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসায়িক নিয়মের মধ্যে আটকে না থেকে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন আনা জরুরি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অযথা ব্যয় ও অনিয়ম দূর করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারী নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অল্প সময়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করে, জনগণের সহযোগিতায় দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে জনগণের জীবনমান উন্নত করার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের ওপর রয়েছে। তাই চলমান সব প্রকল্পকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কেবল কাগজে নয়, বাস্তবে জনগণের কাজে লাগবে এমনভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।
শারমিন বলেন, বর্তমান সময়ে মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ব্যাপক এবং সময় সীমিত। এই সীমিত সময়ের মধ্যে বহু কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত অগ্রসর হওয়া অপরিহার্য।
বাজেটের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। মন্ত্রণালয়ের বাজেটের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের জন্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়েল ডেভেলপমেন্টের লক্ষ্যকে বাজেটের সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
শারমিনের মতে, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে ভবিষ্যতে এই গোষ্ঠীর জীবনমান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ জন্য সম্পদের অপচয় রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাস্তবিক সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি। সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করে সমাধান করা হলে জনগণের আস্থা অর্জন সহজ হবে। তাই মন্ত্রণালয় সমস্যার মূল বিশ্লেষণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, মন্ত্রণালয়ের রুলস হল মানুষের সেবা করা। এই নীতি অনুসরণ করে তিনি বলছেন, ব্যবসায়িক নিয়মের মধ্যে আটকে না থেকে পরিবর্তন আনা এবং অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রস্তুতি নিয়ে অল্প সময়ে অনিয়ম দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কেবল নথিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবিকভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
শারমিনের শেষ মন্তব্যে তিনি বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও সময়ের চাপের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্পদের অপচয় রোধে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রকৃত সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে।
সভা শেষের দিকে মন্ত্রীর শেষ কথা ছিল, নির্বাচনী ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় জনগণের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবে এবং চলমান সব প্রকল্পকে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করবে। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে সমন্বয় ও ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করা হবে।



