১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের এক পর্যায়ে ব্যর্থতা ঘটায় পশ্চিম ইউরোপের আকাশে অগ্নিকুণ্ডের ঝলক। রকেটটি আয়রল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও জার্মানির উপরে অগ্নি শিখা তৈরি করে, শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এই ঘটনার সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে লিথিয়াম প্লুমের সংযোগ প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
রকেটের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে একটি বড় টুকরা পোল্যান্ডের কোমর্নিকি শহরের একটি গুদামের পেছনে প্রায় ১.৫ মি × ১ মি মাপের আকারে পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি লক্ষ্য করে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞানী দলকে জানায়।
বৈজ্ঞানিক তদন্তের দায়িত্ব নেয় জার্মানির লেইবনিজ ইনস্টিটিউট অফ অ্যাটমোসফেরিক ফিজিক্সের দল, যেখানে প্রফেসর রবিন উইং নেতৃত্ব দেন। রকেটের ধাতব অংশে অ্যালুমিনিয়াম-লিথিয়াম মিশ্রণ রয়েছে বলে সন্দেহ করে, তারা লেজার স্পেকট্রোস্কপি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ থেকে মুক্ত হওয়া ধাতব পরমাণু সনাক্ত করে।
ইউনিভার্সিটি অফ লিডসের প্রফেসর জন প্লেনের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, রকেটের পুনঃপ্রবেশের সময় বায়ুমণ্ডলে লিথিয়াম ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। মাপা হয় প্রায় ৩০ কিলোগ্রাম লিথিয়াম, যা স্বাভাবিকভাবে দৈনিক ৫০ থেকে ৮০ গ্রাম পর্যন্ত ছোট মেটিয়র থেকে আসে। একক রকেট থেকে এত বড় পরিমাণের লিথিয়াম মুক্তি হওয়া অস্বাভাবিক।
লিথিয়াম ছাড়াও, রকেটের অ্যালুমিনিয়াম ও তার অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, যা ওজোন স্তরের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের উপস্থিতি ওজোনের ক্ষয় বাড়াতে পারে, যদিও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়।
বায়ুমণ্ডলের কণিকায় (এয়ারোসোল) পরিবর্তন ঘটলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়তে পারে। লিথিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের মিশ্রণ কিভাবে মেঘ গঠন ও সানশেডকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে বর্তমান পর্যায়ে অনুমান করা কঠিন। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে থাকেন।
এই গবেষণার প্রাসঙ্গিকতা বাড়িয়ে তোলা হয়েছে, যখন এলন মাস্কের নেতৃত্বে স্পেসএক্স আগামী কয়েক বছরে এক মিলিয়ন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উপগ্রহের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রকেটের ব্যর্থতা ও পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, ফলে বায়ুমণ্ডলে দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বৈজ্ঞানিক দল বর্তমান পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি করে, ভবিষ্যতে রকেটের ধ্বংসাবশেষের বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
অবশেষে, রকেট ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত লিথিয়াম প্লুমের এই প্রথম সরাসরি প্রমাণ বায়ু দূষণ ও মহাকাশ কার্যক্রমের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার দরজা খুলে দেয়। পাঠকরা কি এই ধরনের ঘটনা থেকে উদ্ভূত পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবতে পারেন।



