সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোর্ট চলাকালে প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশটি বৃহস্পতিবার প্রধান কৌঁসুলির স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল কোর্টের কার্যক্রমে কোনো বাধা না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রসিকিউশন নিশ্চিত করা।
অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সঙ্গে আপিল বিভাগ এবং ট্রাইব্যুনালের কোর্ট চলাকালে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। উভয় প্রসিকিউটরকে কোর্টের সেশন চলাকালে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং মামলার তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলামের সঙ্গে প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম এবং প্রশাসনিক প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমকে যুক্ত করে প্রসিকিউটর মো. মামুনুর রশীদকে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই ত্রয়ীকে কোর্টের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ এবং মামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব বণ্টন অনুসারে, শাইখ মাহদী ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে হবে, যাতে আপিল বিভাগে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে, মিজানুল ইসলাম, মইনুল করিম, গাজী মোনাওয়ার এবং মামুনুর রশীদকে কোর্টের সেশন চলাকালে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতি এবং আইনি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে।
প্রধান কৌঁসুলির স্বাক্ষরিত এই আদেশের কার্যকরী তারিখ থেকে সব নির্ধারিত দায়িত্ব অবিলম্বে শুরু হবে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রসিকিউটরকে তাদের নির্ধারিত কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এই পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কোর্টের চলমান মামলাগুলোর ধারাবাহিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জটিল মামলাগুলোর ক্ষেত্রে, ধারাবাহিক প্রসিকিউটর উপস্থিতি বিচার প্রক্রিয়ার গতি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অফিস আদেশে উল্লেখিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাজের পরিধি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্বের সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এতে করে কোর্টের বিভিন্ন বিভাগে কাজের পুনরাবৃত্তি কমে যাবে এবং আইনি দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সহজ হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপটি আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সেশন চলাকালে কোনো ধীরগতি না ঘটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দায়িত্ব বণ্টন কিভাবে প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সমন্বয় করা হবে।



