প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে, আজকের দক্ষিণ জার্মানির একটি উপকূলীয় ল্যাগুনে পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন পাখি বসবাস করত। এই প্রাচীন প্রাণীটি তার মুখের গঠনকে বিশেষভাবে কার্যকরী করে তুলেছিল, যা উড়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জনে সহায়তা করেছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
ফিল্ড মিউজিয়াম, শিকাগোর প্যালিওন্টোলজিস্ট দল এই জীবের ফসিল বিশ্লেষণ করে তিনটি নতুন ক্র্যানিয়াল বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছে। প্রথমটি হল মুখের ছাদের ওপর ছোট ছোট গুঁড়ি, যা আল্ট্রাভায়োলেট আলোতে উজ্জ্বল হয়ে দেখা যায়। এই গুঁড়িগুলি আধুনিক পাখির মুখের প্যাপিলা (oral papillae) এর মতো, যা খাবার ধরতে ও গিলতে সহায়তা করে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল একটি টঙের হাড়, যা আজকের পাখির টঙের হাড়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই হাড়ের উপস্থিতি টঙকে অধিক নমনীয় করে, ফলে খাবার সংগ্রহে দক্ষতা বাড়ে। তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে পাখির চোয়ালের শীর্ষে ক্ষুদ্র নলাকার গহ্বর দেখা গেছে, যা সম্ভবত স্নায়ু সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো। এই গহ্বরগুলো উড়ার সময় দ্রুত খাবার প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে পারে বলে অনুমান করা হয়।
ফসিলের বিশদে দেখা যায়, পাখিটির দাঁতযুক্ত চোয়াল, হুকযুক্ত নখ এবং পালকযুক্ত ডানা ছিল। এই ডানা ছোট দূরত্বে গ্লাইডিং এবং দ্রুত উড়ান দিতে সক্ষম ছিল। বিজ্ঞানীরা এটিকে ডাইনোসরের মধ্যে প্রথম উড়ন্ত পাখি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা পালকযুক্ত এয়ারফয়েল ব্যবহার করে উড়তে পারত।
উড়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি হাঁটা, দৌড়ানো বা সাঁতার কাটার তুলনায় অনেক বেশি, তাই গবেষকরা যুক্তি দেন যে এই প্রাচীন পাখি তার খাবার গ্রহণের পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ কার্যকরী করে তুলেছিল। খাবার দ্রুত গিলে শক্তি সংগ্রহের এই ক্ষমতা সম্ভবত উড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এই গবেষণায় ব্যবহৃত এক্স-রে স্ক্যান এবং আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজিং প্রযুক্তি ফসিলের নরম টিস্যুর রসায়নিক চিহ্ন উন্মোচন করেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ফলে প্যালিওন্টোলজিস্টরা পাখির মুখের গঠন ও তার কার্যকারিতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন।
এই আবিষ্কারটি প্রাচীন পাখির বিবর্তনীয় পথকে আরও স্পষ্ট করে, বিশেষ করে কীভাবে খাবার গ্রহণের দক্ষতা উড়ার ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা বোঝাতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে আরও ফসিল বিশ্লেষণ করে এই প্রক্রিয়ার বিবর্তনীয় ধাপগুলো আরও পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
পাঠকরা যদি প্রাচীন জীবের এই ধরনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে প্যালিওন্টোলজি ও পাখি বিবর্তন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসরণ করা উপকারী হবে। আপনার কি মনে হয়, আধুনিক পাখির কোন বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাচীন উড়ন্ত ডাইনোসরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ?



