১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তিনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার পরে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রত্যাশা দেখা গিয়েছে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বর্তমানে মূল বেতনের অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। একই সময়ে সরকারী কর্মচারীরা মূল বেতনের সম্পূর্ণ, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভাতা পেয়ে থাকেন। ফলে বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে ভাতা পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
মন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকারের অধীনে বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা সম্পূর্ণ করার ব্যবস্থা শীঘ্রই কার্যকর হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “এই সরকারের আমলে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে পরিবর্তিত হবে।” এধরনের প্রতিশ্রুতি শিক্ষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
এহসানুল হক মিলন আরও জানালেন, নির্বাচনের আগে এমপিওভুক্তির জন্য জমা দেওয়া আবেদনগুলো এখনো পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। এই আবেদনগুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম বা ঘুসবাণিজ্য সন্দেহ হলে তা সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ার বিষয়েও মন্ত্রী স্পষ্টতা আনলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব চালু করা হবে।” প্রক্রিয়া চালু না হওয়া পর্যন্ত সিস্টেমে কোনো ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষকদের কর্মস্থল স্থিতিশীলতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি উদাহরণে দেখা যায়, ঢাকা শহরের একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাহিমুল হক, যিনি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ভাতা পান। তিনি মন্ত্রীর ঘোষণার পর পূর্ণ ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। রাহিমুলের মতই অনেক শিক্ষক এখন সরকারী নীতি পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।
শিক্ষকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ হিসেবে, বর্তমান আবেদনপত্র ও বেতন রসিদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারী নীতি পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট নথি আপডেট করে রাখলে ভবিষ্যতে সুবিধা নিতে সহজ হবে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে, বেতন কাঠামোর সমতা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষকদের মনোবল বাড়বে। এধরনের নীতি পরিবর্তন শিক্ষাক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান সময়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য এই ঘোষণাটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণযোগ্য।



