অস্ট্রেলিয়ায় ১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের জন্য বাংলাদেশি নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়ার শীর্ষ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই টুর্নামেন্টটি মহিলাদের ফুটবলে দেশীয় ইতিহাসের একটি মাইলফলক, যেখানে দলটি এশিয়ার সেরা দলে স্থান পেতে চায়। টুর্নামেন্টের সূচনা আগে, দলটি ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উঠে অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হয়।
রওনা হওয়ার আগে বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে তিনি দলের বর্তমান প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। তার বক্তব্যের স্বর তীব্র ও স্পষ্ট ছিল, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বাটলার উল্লেখ করেন, দেশের ফুটবল সংস্থা সবসময় ফুটবলের সূক্ষ্মতা ও প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি উপলব্ধি করে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জীবনের মতোই মাঠে ফলাফল ও জয়কে সাময়িক কাগজের টুকরো দিয়ে ঢেকে রাখার প্রবণতা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। কোচের মতে, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ধারাবাহিক সাফল্য থেকে দূরে রাখে।
কোচের মতে, ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে দু’টি গোল করা এবং পরের বিশ মিনিটে আবার দু’টি গোল করা কেবল অস্থায়ী সাফল্য নয়, বরং ধারাবাহিক ও মানসম্মত পারফরম্যান্স গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি ভিত্তি গড়ে তোলা দরকার, যার ওপর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়াতে চান।
বাটলার তার ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানান, তিনি আগে লিবিয়ার, বতসোয়ানা, ইংল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় কোচিং ও টেকনিক্যাল কাজ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা সংস্থার হাতের পুতুল নন এবং নিজের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন। যখন দলকে অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তখন প্রায়ই তার নামেই দোষারোপ করা হয়।
বাটলার মিডিয়ার কাছে আহ্বান জানান, দল সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করা উচিত, কারণ তা খেলোয়াড় ও কোচের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি দলের জন্য দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, তবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সমালোচনা হওয়া দরকার। এই অবস্থান থেকে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চান।
ডিসেম্বরের পর থেকে দল কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে না, যা কোচের মতে প্রস্তুতির ঘাটতি বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এই অবহেলাকে বিএফএফের দায়িত্বে রাখেন এবং উল্লেখ করেন, লিগের অগ্রাধিকারকে প্রস্তুতির চেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে। ফলে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাটলার বলেন, তিনি বাস্তব জগতে কাজ করতে পছন্দ করেন, রূপকথার জগতে নয়; তাই তিনি সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা করে দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে চান। তিনি প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার চেয়ে প্রোঅ্যাকটিভ পদ্ধতি গ্রহণে জোর দেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দলকে শক্তিশালী করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি দলের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য বলে মনে করেন।
বাংলাদেশি নারী দল ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হবে এবং পরবর্তী সপ্তাহে এশিয়ান কাপের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে। কোচ বাটলার আশা প্রকাশ করেছেন, সঠিক প্রস্তুতি ও মানসম্পন্ন পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি সাফল্য অর্জন করবে। তিনি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ফুটবলের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



