বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি পদে নামের গুঞ্জন সম্পর্কে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বললেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি এবং কিছুই জানেন না।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লিখিত হওয়ায় এবং মন্ত্রীপরিষদে না থাকায় গুঞ্জন বাড়ছে; তবে তিনি জোর দিয়ে জানান, এ ধরনের কোনো প্রস্তাবের তথ্য তার কাছে পৌঁছায়নি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পূর্বে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে তার দেশসেবা পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তবু তিনি একই রকম উত্তর দিয়েছেন – দল যেভাবে তাকে দায়িত্ব দেবে, তিনি সেভাবেই তা পালন করবেন।
ড. মোশাররফের মতে, “দল আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেটি যথাযথভাবে পালন করব” – এই বক্তব্যে তিনি পার্টির সিদ্ধান্তকে সম্মান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
যদি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নিযুক্ত হন, তবে তিনি প্রথম কাজ হিসেবে দেশের দুর্নীতি ও অন্যায় রোধে “রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা” বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি হোন বা অন্য কোনো পদে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা হবে প্রধান লক্ষ্য, এবং স্বনির্ভর Bangladesh সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ড. মোশাররফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি‑মেঘনা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের বিরোধী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপি জ্যেষ্ঠ কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি চারবার সংসদ সদস্যের ম্যান্ডেট পেয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
মন্ত্রিসভার দায়িত্বে থাকলেও তিনি পার্টির নীতি ও নির্দেশনা মেনে কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা তার রাজনৈতিক নীতি ও পার্টি শৃঙ্খলার প্রতি আনুগত্যকে তুলে ধরে।
রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরে, ড. মোশাররফ তার নির্বাচিত জেলায় একজন সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে সমাদর পেয়ে আসছেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, যেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার মাধ্যমে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছেন।
এই সাক্ষাৎকারের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ড. মোশাররফের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্ব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর তালিকা নির্ধারণে।
বিএনপি অভ্যন্তরে এখনো কোন নাম প্রস্তাবের চূড়ান্ত পর্যায়ে নেই, তবে ড. মোশাররফের মন্তব্য দলকে গঠনমূলকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবশ্যই, রাষ্ট্রপতি পদে নামের গুঞ্জন অব্যাহত থাকলেও, ড. মোশাররফের অবস্থান স্পষ্ট – তিনি কোনো প্রস্তাব জানেন না এবং পার্টি যে দায়িত্ব দেবে, তা তিনি সৎভাবে পালন করবেন।
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংযোগ না থাকলেও, রাজনৈতিক দিক থেকে এটি দেশের শাসন কাঠামোর ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



