অ্যানুরাগ কাশ্যাপের নিও-নোয়ার ড্রামা ‘Kennedy’ আগামী শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, থিয়েটারে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছবিটি ২০২৩ সালে ক্যান্স ফেস্টিভ্যালে বিশ্বমঞ্চে debut করে সাড়া ফেলেছিল এবং একই বছর জিও মামি মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নিতা মুকেশ অম্বানি কালচারাল সেন্টারে প্রদর্শিত হয়। এক মাস পর, কেন্দ্রীয় সেন্ট্রাল বডি অফ ফিল্ম সিটেশন (CBFC) ছবির সার্টিফিকেশন প্রদান করে, তবে কিছু নাম ও দৃশ্যের পরিবর্তন আদেশ করে।
CBFC-এর নির্দেশে ছবির মূল স্ক্রিপ্টে থাকা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামটি ‘Pump Trump’ দিয়ে বদলানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ‘Dawood Ibrahim’ নামটি ‘Pakistan Don’ শব্দে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো ছবির কাহিনীর নির্দিষ্ট চরিত্রের পরিচয়কে ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করতে চায়, যা সেন্সর বোর্ডের নীতি অনুসারে করা হয়েছে।
‘Kennedy’ ছবিটি অ্যানুরাগ কাশ্যাপের দীর্ঘ সময়ের পরের একটি বড় প্রকল্প হিসেবে গণ্য হয়। কাশ্যাপের পূর্বের কাজগুলো প্রায়শই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়কে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেছে, তাই এই ছবির নাম ও চরিত্রে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে সেন্সর বোর্ডের মতে, পরিবর্তনগুলো কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনসাধারণের সংবেদনশীলতা রক্ষার জন্য।
ফিল্মের প্রথম প্রদর্শনী ক্যান্সে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। ছবির নেটো-নোয়ার শৈলী, তীব্র দৃশ্য এবং জটিল চরিত্র বিশ্লেষণকে প্রশংসা করা হয়েছিল। মুম্বাই ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের সময়ও দর্শকরা ছবির গাঢ় বর্ণনা ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে স্বাগত জানায়।
সেন্সর বোর্ডের পরিবর্তনগুলো মূলত নামের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাব বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা কিছু দর্শকের কাছে বিতর্কের বিষয় হতে পারে। একইভাবে, ‘Dawood Ibrahim’ নামে উল্লেখিত অপরাধী ব্যক্তির নামও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
এই পরিবর্তনগুলো ছবির মূল কাহিনীর প্রবাহে বড় পরিবর্তন আনে না, তবে চরিত্রের পরিচয়কে সামান্য ভিন্ন রঙে উপস্থাপন করে। ‘Pump Trump’ ও ‘Pakistan Don’ নামগুলো কল্পনাপ্রসূত রূপে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকের কল্পনা ও ব্যাখ্যার জন্য নতুন দিক উন্মুক্ত করে।
সেন্সর বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছবির অন্যান্য দৃশ্য ও সংলাপের কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। শুধুমাত্র নামের পরিবর্তনই মূলত উল্লেখযোগ্য। ছবির মোট রানটাইম ও মূল কাহিনী অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি স্বচ্ছন্দ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
‘Kennedy’ ছবির মুক্তি তার পূর্বের ফেস্টিভ্যাল সাফল্যের পর আরও বেশি প্রত্যাশা তৈরি করেছে। চলচ্চিত্রটি ২০২৩ সালের ক্যান্সে ফেস্টিভ্যালে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জন্য মনোনীত হয়েছিল, যদিও জয়লাভ করেনি। মুম্বাই ফেস্টিভ্যালে দর্শক সংখ্যা উচ্চ ছিল, যা ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
সেন্সর বোর্ডের পরিবর্তনগুলো প্রকাশের আগে ছবির প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবির নির্মাতা ও বিতরণকারী সংস্থা এই পরিবর্তনগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, দর্শকের অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
প্রকাশের দিন, থিয়েটারগুলোতে দীর্ঘ সারি গড়ে উঠতে পারে, কারণ অ্যানুরাগ কাশ্যাপের কাজের প্রতি ভক্তদের আগ্রহ সর্বদা উচ্চ। ছবির প্রচারমূলক পোস্টার ও ট্রেলারগুলো ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শেয়ার হয়েছে, যেখানে পরিবর্তিত নামগুলোও দৃশ্যমান।
সিনেমা প্রেমীরা এখন এই পরিবর্তিত সংস্করণটি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন। ছবির বিষয়বস্তু, নায়ক-নায়িকার জটিল সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পটভূমি এখনও মূল আকর্ষণ বজায় রাখে। দর্শকরা ছবির নেটো-নোয়ার পরিবেশে ডুবে, চরিত্রের গভীরতা ও গল্পের মোড় ঘুরে দেখতে পারবেন।
চলচ্চিত্রের এই নতুন রূপে নামের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের অভিজ্ঞতা ও চলচ্চিত্রের শিল্পমূল্যই মূল বিষয়। যারা অ্যানুরাগ কাশ্যাপের কাজের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য এই মুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মুহূর্ত। ছবিটি দেখার পর, চলচ্চিত্রের থিম ও নির্মাণশৈলী নিয়ে আলোচনা করা এবং পরবর্তী রিলিজের তথ্য অনুসরণ করা উপকারী হবে।
সিনেমা হলের নিরাপদ পরিবেশে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করার সময়, দর্শকদের জন্য সুপারিশ করা হয় যে, টিকিট আগে থেকে বুক করে, সময়মতো আসন নিশ্চিত করুন এবং সিনেমা দেখার পর সামাজিক মাধ্যমে আপনার মতামত শেয়ার করুন। এভাবে আপনি শুধু একটি চমৎকার চলচ্চিত্রের আনন্দই পাবেন না, বরং শিল্পের প্রতি আপনার সমর্থনও প্রকাশ করবেন।



