23 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল এশীয় কাপের প্রথম সফরে চ্যালেঞ্জের মুখে

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল এশীয় কাপের প্রথম সফরে চ্যালেঞ্জের মুখে

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল কোচ পিটার বাটারের নেতৃত্বে এশীয় কাপের প্রথম উপস্থিতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাবে। বাটার স্বীকার করেছেন যে দলটি এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয় এবং “ক্যাচ‑আপ” অবস্থায় আছে, তাই শীর্ষ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে বড় পার্থক্য এড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দরকার।

দলটি গ্রুপ বি-তে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানসহ তিনটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১১২ নম্বরে, চীন ১৭, উত্তর কোরিয়া ৯ এবং উজবেকিস্তান ৪৯ নম্বরে অবস্থান করছে। এই র‍্যাংকিং পার্থক্যই বাটারকে দলকে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তুত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচটি সিডনিতে ৩ মার্চ চীনের বিরুদ্ধে খেলবে। এরপর ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এবং শেষ ম্যাচটি ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে হবে। তিনটি ম্যাচের পর গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং দুইটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রসর হবে।

এই এশীয় কাপের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ফিফা মহিলা বিশ্বকাপের সরাসরি ছয়টি স্থান নির্ধারিত হবে, আর দুইটি স্থান ইন্টার‑কনফেডারেশন প্লে‑অফের মাধ্যমে অর্জন করা যাবে। তাই বাংলাদেশকে শুধু গ্রুপে টিকে থাকা নয়, বিশ্বকাপের সম্ভাবনা বজায় রাখার জন্যও কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

বাটার প্রেস কনফারেন্সে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা কল্পনাপ্রসূত এবং উজবেকিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, “উজবেকিস্তান আমাদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবিক পয়েন্টের সুযোগ হতে পারে, তবে তাদের প্রযুক্তিগত ও শারীরিক ক্ষমতা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে দলটি প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে।

কোচ আরও উল্লেখ করেন, “উত্তর কোরিয়া ও চীনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে বড় পার্থক্য না রাখতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি দরকার।” তিনি অতিরিক্তভাবে যোগ করেন যে, যারা এখনই বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া উচিত।

উজবেকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি দলটির জন্য পয়েন্ট সংগ্রহের সবচেয়ে সম্ভাব্য সুযোগ, তবে বাটার স্বীকার করেন যে উজবেকিস্তান “প্রযুক্তিগত ও শারীরিকভাবে অনেক বেশি উন্নত”। তাই তিনি দলকে উভয় দিকেই প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান, যাতে বড় স্কোরের পার্থক্য না হয়।

এশীয় কাপের ফলাফল সরাসরি বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। ছয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে, আর দুইটি দল প্লে‑অফের মাধ্যমে সুযোগ পাবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করা জরুরি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) দলকে এশীয় কাপের জন্য নির্বাচনের পর প্রস্তুতি সম্পর্কিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তবে প্রস্তুতির স্তর প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে বাটার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রস্তুতি এখনো আদর্শের কাছাকাছি নয়, তাই আমরা দ্রুত শিখে নিতে হবে এবং প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে।” এই মন্তব্য দলকে ত্বরিত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশীয় কাপের প্রথম সফরে কঠিন গ্রুপে অবস্থান করেছে এবং কোচ বাটার দলকে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। দলটি ৩ মার্চ চীনের সঙ্গে, ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এবং ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই বিশ্বকাপের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা বহন করে। প্রস্তুতি, মনোযোগ এবং ধারাবাহিকতা যদি সঠিকভাবে বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে অগ্রগতি করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments