ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে বুধবার বিকেলে একটি রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে। বিএনপি গৌরীপুর উপ-কমিটির এক্সিকিউটিভ কমিটি সদস্য মান্নান তালুকদারকে গাড়ি থামিয়ে শারীরিক আক্রমণ করা হয় এবং তার মাথা কেটা হয়। ঘটনাটি গৌরীপুর পৌরসভার নিউ বাস স্ট্যান্ড রেল ক্রসিং এলাকায় ঘটেছে।
মান্নান তালুকদার জানান, তিনি দুপুর প্রায় ২ঃ৩০ টায় সিএনজি চালিত অটো রিকশা দিয়ে ময়মনসিংহের পথে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে কৃষক দলের গৌরীপুর পৌরসভা সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি এবং তার অনুসারীরা অটো থামিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেন। এরপর তাঁকে গালি-গালাজের সঙ্গে শারীরিকভাবে আঘাত করে নিকটস্থ এক নাপিতের দোকানে নিয়ে গিয়ে মাথা কেটে ফেলেন। আক্রমণকারীরা পথচারীদের সামনে এই অপমানজনক কাজটি সম্পন্ন করার জন্য তাদেরকে আহ্বান জানায়।
মান্নান তালুকদার দাবি করেন, এই আক্রমণ তার ময়মনসিংহ‑৩ সংসদীয় আসনে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী আহমদ তায়েবুর রহমান হিরানের সমর্থনে কাজ করার কারণে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনের সতেরো বছর ধরে তিনি বহুবার জেলখানায় ছিলেন, তবে এ রকম জনসমক্ষে অপমানের অভিজ্ঞতা পাননি।
আক্রমণের পর মান্নান গৌরীপুর থানা-তে শাহী মুন্সি এবং অজানা আটজনকে নিয়ে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেন। থানার ওসিআই কামরুল হাসান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করার কাজ শুরু করেছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে গৃহীত প্রমাণ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শাহী মুন্সি ঘটনাটির অস্বীকার করে, তিনি বলেন যে বিএনপির খ্যাতি নষ্ট করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজে এবং তার দলের কোনো সদস্যকে আক্রমণে যুক্ত করার কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন।
বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী হিরানও এই ঘটনার নিন্দা করে, দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত তদন্তের দাবি জানিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের নামেই এমন সহিংসতা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
কৃষক দলের কেন্দ্রীয় উপ-সভাপতি ও আইনজীবী আবুল বশার আখন্দা জানান, এই বিষয়টি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জানানো হয়েছে। তিনি যোগ করেন, যদি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পার্টি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ বর্তমানে শাহী মুন্সি এবং অপরাধে জড়িত আটজন সন্দেহভাজনের গ্রেফতার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের আদালতে হাজির হওয়ার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে গৌরীপুরে রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে।



