প্রিমিয়ার ব্যাংক গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫,০০০ কোটি টাকার জরুরি তরলতা সহায়তা পেয়েছে। এই পদক্ষেপটি ব্যাংকের ডিপোজিটে প্রবাহের হ্রাসের পর নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বিষয়টি জানিয়েছেন।
সহায়তার মোট পরিমাণের মধ্যে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা স্ট্যাটুটরি লিকুইডিটি রেশিও (SLR) পূরণের জন্য কেটে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি SLR মানদণ্ডে কমতি থাকায় এই অর্থ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। SLR হল এমন একটি ন্যূনতম শতাংশ, যা বাণিজ্যিক ব্যাংককে তার জমার একটি অংশ নগদ, স্বর্ণ বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজের আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখতে হয়।
প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য SLR হার ১৩ শতাংশ নির্ধারিত। এই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে ব্যাংককে অতিরিক্ত তরলতা সমর্থন প্রদান করা হয়, যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্ষেত্রে, সহায়তার অধিকাংশ অংশই SLR সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
ডেইলি স্টার প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান চার্জ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ মনজুর মোফিজের সঙ্গে ফোন ও টেক্সটের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে তিনি প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। এই অপ্রতিক্রিয়া ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, বাংলাদেশ ব্যাংক গত আগস্টে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ডকে বাতিল করে সাত সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করেছিল। এই প্যানেলটি ব্যাংকের তত্ত্বাবধান ও পুনর্গঠন কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন আওয়ামী লীগ আইনসভা সদস্য এইচবিএম ইকবাল, গত জানুয়ারিতে ২৬ বছর পর পদত্যাগ করেন। তার দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের পর ব্যাংকটি নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করেছে।
এই তরলতা সহায়তা ব্যাংকের নগদ প্রবাহের সংকট কমাতে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে SLR সমন্বয়ের জন্য বড় অংশ কেটে নেওয়া হওয়ায় ব্যাংকের মূল মূলধন কাঠামোতে প্রভাব পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যাংকগুলোতে তরলতা সমর্থন দ্রুত প্রদান করা আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, SLR মানদণ্ডের কঠোরতা ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার মূল্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তবে সরকারী সহায়তার ঘোষণার পর তা স্থিতিশীল হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন ব্যাংকের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও নতুন ব্যবস্থাপনা দলের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তরলতা সহায়তা নীতি অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অতিরিক্ত তহবিল প্রদান করা হয়। এই নীতি আর্থিক সংকটের সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরের স্বল্পমেয়াদী চাপ কমাতে সহায়তা করে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্ষেত্রে, এই সহায়তা তার ডিপোজিট আউটফ্লো থামাতে এবং গ্রাহকদের জমা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের লাভজনকতা ও ঋণ পোর্টফোলিওর গুণগত মান উন্নত করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৫,০০০ কোটি টাকার জরুরি তরলতা সহায়তা পেয়েছে, যার বেশিরভাগ অংশ SLR পূরণের জন্য ব্যবহার হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদী আর্থিক চাপ কমাতে এবং সেক্টরের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ব্যাংকের পুনর্গঠন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল সফল হলে তার বাজারে পুনরুদ্ধার আরও দৃঢ় হবে।



