ঢাকার রেল ভবনে বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রীর সঙ্গে রেল কর্মকর্তাদের বৈঠকে রেলমন্ত্রীর প্রধান বক্তব্য প্রকাশ পায়। রেলমন্ত্রীর শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ রেলওয়ে-কে ক্ষতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখবে না এবং এটিকে লাভজনক সত্তা রূপে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রেল সেবা উন্নয়ন ও যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকের সময় মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী রেল অবকাঠামো ও সেবার মানোন্নয়নে উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কর্তৃক প্রকাশিত নির্বাচনি ইশতেহারে রেলকে জাতীয় পরিবহনের মূল মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রীর মন্তব্যকে প্রাসঙ্গিক করেন।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী রেলকে দেশের প্রধান পরিবহন ধারা হিসেবে পুনরায় গঠন করা হবে, এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে রেল সেবা আর্থিকভাবে টেকসই হয়।
এই প্রেক্ষাপটে রেলমন্ত্রীর নির্দেশে, রেল বিভাগকে ১৮০ দিনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে, যা বিএনপির ইশতেহারকে কার্যকরী রূপে রূপান্তর করবে। পরিকল্পনায় রেল অবকাঠামো আধুনিকায়ন, সেবা মানোন্নয়ন এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার ধাপগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ধারণা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচলের সময় কমানোর জন্যও বিশেষ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকরী সমাধান বের করে তা বাস্তবায়ন করার দাবি করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য যাত্রীদের ভ্রমণ সময় হ্রাস করে রেল সেবার আকর্ষণ বৃদ্ধি করা।
বৈঠকটি রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। সকল কর্মকর্তার সমন্বয়ে রেল সংস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সমন্বিত আলোচনা হয়।
রেলমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সরকারী ও বিরোধী দল উভয়েরই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। রেলকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে দেশের পরিবহন কাঠামোতে রেলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পরবর্তী সময়ে প্রস্তুত করা কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা পূরণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
বৈঠকের পর রেল মন্ত্রণালয় একটি বিশদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে মন্ত্রীর মন্তব্য ও নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রেলকে লাভজনক সংস্থা রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, সময়সীমা এবং দায়িত্বশীল বিভাগগুলোর ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেল সংস্থার আর্থিক অবস্থা উন্নত করার জন্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে টিকিটের মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা, সেবা মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামো আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। সরকার এই উদ্যোগকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছে।
এই ঘোষণার ফলে ১৩তম সংসদ নির্বাচনের পূর্বাভাসে রেল নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হতে পারে। বিএনপি যদি রেলকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, তবে তা সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, রেল সংস্থার আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনে বাস্তবিক চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে।



