সাম বসু গুগল থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে পদত্যাগ করেন, যখনই চ্যাটজিপিটি প্রকাশ পায়। গুগল ছেড়ে তিনি কয়েকটি এআই স্টার্ট‑আপের চেষ্টা করেন, তবে সাফল্য না পেয়ে এক বন্ধুর অনুরোধে কাস্টমস কাগজপত্রের কাজের সহায়তা চায়।
বসু লস এঞ্জেলেসের কাস্টমস ব্রোকারদের ফোন করে জানতে পারেন যে অধিকাংশই এখনও ফ্যাক্স এবং কাগজের ওপর নির্ভরশীল। প্রথম গ্রাহকের অফিসে ফেসটাইমে দেখানো ম্যানিলা ফোল্ডারগুলো দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে শিল্পটি সম্পূর্ণভাবে কাগজের জগতে আটকে আছে। পরের দিনই তিনি গ্রাহকের অফিসে গিয়ে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে কাস্টমস প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরের ধারণা দেয়।
এরপর বসু এবং লিঙ্কডইনের প্রাক্তন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরুশি ভাশিস্ট একসাথে “অ্যামারি এআই” নামে একটি স্টার্ট‑আপ প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি গ্রাহককে সেবা প্রদান করেছে এবং এই গ্রাহকদের মাধ্যমে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য সীমানা পার করেছে। কোম্পানিটি গোপন মোড থেকে বেরিয়ে আসার আগে প্রথম রাউন্ডে ফার্স্ট রাউন্ড ক্যাপিটাল এবং পিয়ার ভিসি সমন্বিতভাবে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে।
অ্যামারি এআই-এর প্রধান লক্ষ্য হল কাস্টমস ব্রোকারদের কাজের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ব্রোকার নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে ধীর, যদিও কিছু প্রতিষ্ঠান অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR) ব্যবহার করে ডেটা এন্ট্রি দ্রুত করতে চেষ্টা করে, তবু এই পদ্ধতি সীমিত এবং ত্রুটিপ্রবণ। অ্যামারি এআই স্বয়ংক্রিয় ডেটা এন্ট্রি এবং কাগজপত্রের প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে, যাতে কর্মীরা—যারা আইনি ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে বাধ্য—অফশোর কর্মী না ব্যবহার করে গ্রাহকের পণ্য সীমানা পার করার কাজের ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
এই উদ্যোগটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। ট্রাম্পের সময়ে আরোপিত শুল্ক ও রপ্তানি-আমদানি বিধিনিষেধের ফলে কাস্টমস প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে, এবং অনেক ব্যবসা দ্রুত ও সঠিক ডকুমেন্টেশন চায়। অ্যামারি এআই-এর স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম এই চাহিদা পূরণে সক্ষম, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক ও নীতি পরিবর্তনের প্রভাব কমিয়ে কার্যকরভাবে পণ্য রপ্তানি-আমদানি করতে পারে।
বসু উল্লেখ করেন যে কাস্টমস ব্রোকারদের কাজের পরিবেশে ফ্যাক্স, ম্যানিলা ফোল্ডার এবং হাতে লেখা নোটের ব্যবহার এখনও ব্যাপক। এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হলে কেবল প্রযুক্তি নয়, শিল্পের মানসিকতা পরিবর্তনও প্রয়োজন। অ্যামারি এআই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে যা কাগজের কাজকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে, ডেটা যাচাই ও সংরক্ষণ স্বয়ংক্রিয় করে এবং রিয়েল‑টাইমে আপডেট প্রদান করে।
এ পর্যন্ত কোম্পানির সেবা গ্রহণকারী গ্রাহকরা উল্লেখযোগ্য সময় ও খরচ সাশ্রয় রিপোর্ট করেছেন। স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি ত্রুটি কমে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের গতি বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সময়সূচি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন অনুসারে কর্মীদের দেশে থাকতে হবে, তাই অ্যামারি এআই কর্মীদের কাজের চাপ কমিয়ে গ্রাহক সেবায় মনোযোগ দিতে সহায়তা করে।
অ্যামারি এআই ভবিষ্যতে কাস্টমস শিল্পে আরও গভীর একীকরণ পরিকল্পনা করছে। কোম্পানি বর্তমানে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক রিস্ক অ্যানালাইসিস, শুল্ক পূর্বাভাস এবং স্বয়ংক্রিয় ডকুমেন্টেশন জেনারেশন ফিচার উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ফিচার কাস্টমস প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
সাম বসু এবং আরুশি ভাশিস্টের মতে, কাস্টমস ব্রোকারদের আধুনিকায়ন কেবল প্রযুক্তিগত আপডেট নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা মোকাবেলায় এই ধরনের উদ্ভাবনী সমাধান শিল্পের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



