24 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বললেন, আগামী বছরে কৃষি পণ্যের আমদানি...

কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বললেন, আগামী বছরে কৃষি পণ্যের আমদানি হ্রাস, রপ্তানি বৃদ্ধি

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আজ সরকারি দপ্তরে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় জানিয়েছেন, সরকার আগামী বছর কৃষি পণ্যের আমদানি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি খাতের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত।

মন্ত্রীর মতে, আমদানি হ্রাসের পাশাপাশি রপ্তানি শিল্প পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে কৃষি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্পমুখীভাবে বিক্রি করা যায়। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, রপ্তানি কেবল সীমিত পরিমাণে নয়, বরং ব্যাপক পরিসরে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষি খাতকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী জানান, দেশের মোট জিডিপির একটি বড় অংশই এই সেক্টর থেকে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামাঞ্চলের বহু পরিবারই সরাসরি কৃষিতে জড়িত, তাই এই খাতের উন্নয়ন সরাসরি মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক।

মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কৃষি শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং সমগ্রিক পুনর্গঠন করা হবে যথাযথ পরিকল্পনা ও কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার সংযোগ শক্তিশালীকরণই প্রধান দিক।

এছাড়া, কৃষি খাতকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, এ কথায় মন্ত্রী জোর দেন। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ—কৃষক, বাণিজ্যিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নীতি নির্ধারক—কে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

আজকের অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা মন্ত্রীর পরিকল্পনা শোনার পর প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নেন। তারা মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে জানান, আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে দেশের মুদ্রা রিজার্ভ রক্ষা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো সম্ভব।

মন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপ হিসেবে আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন শুল্ক নীতি প্রণয়ন এবং রপ্তানি উৎসাহিত করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতিগুলো কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে সহায়তা করবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা বলেন, যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে কৃষি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে, কিছু কৃষক সংগঠন এখনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যে আমদানি হ্রাসের ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মন্ত্রী এসব উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

মন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে নীতি গ্রহণ করেছে, তা পরবর্তী নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, মন্ত্রীর দল নীতি প্রণয়নের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংসদে উপস্থাপন করবে। এরপর পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। সবশেষে, মন্ত্রী সব অংশীদারকে আহ্বান জানান, একসাথে কাজ করে দেশের কৃষি খাতকে শক্তিশালী করে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments