উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারক জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশ জারি করে নির্বাচনী পিটিশন নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এই বেঞ্চের কাজ হল ১৯৭২ সালের প্রতিনিধিত্বের অধিকার আদেশ, ২০০১ সালের সংশোধনীসহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দাখিল করা পিটিশন ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত সমাধান করা। পিটিশনগুলো মূলত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সময় ঘটিত কিছু অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে দায়ের হয়েছে।
বেঞ্চের নেতৃত্বে নিযুক্ত হয় বিচারপতি মোঃ জাকির হোসেন, যাকে প্রধান বিচারক হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। তিনি এবং অন্যান্য সহ-বিচারকরা পিটিশনের শুনানি পরিচালনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেঞ্চটি শুধুমাত্র পিটিশন নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি বিষয়ও সমাধান করবে।
বেঞ্চের গঠনের পেছনে রয়েছে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজন। নির্বাচনী পিটিশনগুলো মূলত ভোটার তালিকা, ভোটের গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ত্রুটি ও অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে দায়ের হয়েছে। উচ্চ আদালত এই বিষয়গুলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়।
প্রতিনিধিত্বের অধিকার আদেশ, ১৯৭২ এবং তার ২০০১ সালের সংশোধনীই এই পিটিশনের আইনি ভিত্তি। এই আইনগুলো ভোটার নিবন্ধন, ভোটের গোপনীয়তা, ভোটের গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার নিয়মাবলী নির্ধারণ করে। সংশোধনীটি বিশেষভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য নতুন ধারাবাহিকতা যোগ করেছে।
ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩০০টি সংসদীয় এলাকা থেকে ২৯৯টি এলাকায় ভোটিং অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। ভোটিংয়ের দিনটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কিছু এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ দেখা গিয়েছিল।
এরপরের দিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশন একটি গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করে ২৯৭ জন প্রার্থীর পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেয়। একই দিনে একটি গণভোটের ফলাফলও প্রকাশিত হয়, যা নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হয়। গেজেট নোটিফিকেশনটি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং পার্লামেন্টের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী পিটিশনগুলো মূলত নির্বাচনের ফলাফলে অসঙ্গতি, ভোটার তালিকায় ভুল এবং ভোটের গণনা প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই পিটিশনগুলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য উচ্চ আদালতের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
বেঞ্চের কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কিছু দল পিটিশনের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের ন্যায়বিচার রক্ষায় অপরিহার্য। অন্যদিকে, কিছু দল দাবি করেছে যে, পিটিশনের দায়েরের পরিমাণ অতিরিক্ত এবং নির্বাচনের ফলাফলকে অস্থির করতে পারে।
উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী সপ্তাহে পিটিশনের শোনানি নির্ধারিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ দেওয়া হবে। শোনানির ফলাফল অনুযায়ী, যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ফলাফল সংশোধন বা পুনরায় গণনা করা হতে পারে। অন্যথায়, পিটিশনগুলো প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।
এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নির্বাচনী আইনের সংস্কার ও প্রয়োগে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে। তাই, দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলো উভয়ই এই বেঞ্চের কার্যক্রমকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সারসংক্ষেপে, উচ্চ আদালত এখন নির্বাচনী পিটিশন নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে বিচারপতি মোঃ জাকির হোসেন আছেন। বেঞ্চটি ১৯৭২ সালের প্রতিনিধিত্বের অধিকার আদেশ ও ২০০১ সালের সংশোধনী অনুসারে পিটিশন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



