স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে একটি মতবিনিময় সভায় সফল রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সফল রাষ্ট্র নির্মাণে সকল স্তরের সমন্বয় ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।
সভায় মির্জা ফখরুলের বক্তব্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আমরা পার্থক্য ও মতবিরোধকে পেছনে ফেলে এক দল হিসেবে কাজ করি, তবে উন্নয়ন, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
গত সপ্তাহে এক দীর্ঘ অন্তর্বর্তী সময়ের পর, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে আসা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এই নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, তবে সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি যোগ করেন, দেশের পুনর্গঠনে এই দৃষ্টিভঙ্গি মূল চালিকাশক্তি।
জনগণের ট্যাক্সে চলা সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব, এ কথাটি মন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্যাক্সদাতাদের কাছে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা সরকারের মৌলিক নীতি।
গত পনের বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, সরকার এখন সেসব প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় সচল ও কার্যকর করার জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামীণ জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি কোনো আবেগপূর্ণ মন্তব্য নয়, বরং বাস্তব সামাজিক সত্য। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য কমাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকার অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে। মন্ত্রীর মতে, এই দুই ক্ষেত্রের উন্নতি না হলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও সভায় উপস্থিত থেকে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ পয়েন্টের প্রোগ্রাম জনগণের সামনে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান এবং সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা এই প্রোগ্রামের মূল ভিত্তি গঠন করবে।



