স্টার্টআপের শুরুর পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাতাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হল প্রথম কর্মী দলকে কীভাবে গঠন করা হবে। প্রথম পাঁচ থেকে দশজন কর্মী কোম্পানির সংস্কৃতি ও কাজের পদ্ধতিকে গঠন করে, এবং তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠা প্রথা পরবর্তীতে পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সঠিক দল গঠনকে ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
বিল্ড মোডের দ্বিতীয় সিজনে, আইসাবেল জোহানেসেনের সঙ্গে ইউরি সাগালভকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাগালভ বর্তমানে জেনারেল ক্যাটালিস্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পূর্বে ওয়েফাইন্ডার ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ি সি পার্টনার এবং সিড ইনভেস্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তার অভিজ্ঞতা প্রি-সিড ও সিড পর্যায়ের শত শত স্টার্টআপের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার ফলে গড়ে উঠেছে।
সাগালভের মতে, প্রতিষ্ঠাতা দল গঠন করার সময় দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য এবং ভাগ করা ভিশনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথম নিয়োগগুলো কেবল কাজের দায়িত্বই নয়, কোম্পানির মানসিকতা ও আচরণবিধি বহন করে। তাই এমন প্রার্থীদের নির্বাচন করা জরুরি, যারা প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্যকে সমর্থন করে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে।
ক্যাপ টেবিলের গঠনেও সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত শেয়ার হ্রাসের ফলে প্রতিষ্ঠাতার নিয়ন্ত্রণ কমে যায়, তাই প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমান ও যুক্তিসঙ্গত ইকুইটি ভাগ করা উচিত। সঠিকভাবে ভাগ করা ইকুইটি দলকে প্রেরণা দেয় এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের সময় শেয়ার হ্রাসের ঝুঁকি কমায়।
ক্ষতিপূরণ কাঠামো তৈরি করার সময় বেতন ও ইকুইটির সমন্বয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভেস্টিং শর্ত যুক্ত করে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা যায়, এবং কোম্পানির বৃদ্ধি সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিপূরণও স্কেল করতে পারে। সঠিক মডেল প্রতিষ্ঠাতাকে প্রতিভা আকর্ষণ করতে এবং আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
সাগালভ বিনিয়োগকারীদের তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেন। প্রথম শ্রেণি হল এমন বিনিয়োগকারী, যারা দলকে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কাজ করে, নিয়োগ, বাজারে প্রবেশ এবং কৌশলগত দিকনির্দেশে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে। দ্বিতীয় শ্রেণি হল এমন বিনিয়োগকারী, যারা মূলধন প্রদান করে এবং পরে পেছনে সরে যায়। তৃতীয় শ্রেণি হল মাইক্রোম্যানেজার, যারা প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রায়শই অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
সাগালভ প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেন, কারণ তারা চেকের আকারের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে মূল্যবান সম্পদ প্রদান করে। এই বিনিয়োগকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া, বাজারে প্রবেশের কৌশল এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে সরাসরি সহায়তা করে, যা স্টার্টআপের দ্রুত বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত হস্তক্ষেপকারী ভিসি-দের সঙ্গে কাজ করা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও তহবিলের প্রয়োজনীয়তা থাকে, তবে এমন বিনিয়োগকারী যারা প্রতিটি অপারেশন নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, তারা প্রতিষ্ঠাতার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি আনতে পারে। সাগালভ এ ধরনের বিনিয়োগকারীকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
তিনি স্পষ্টভাবে তৃতীয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের উল্লেখ করে বলেন, তারা অর্থ প্রদান করার পর কোম্পানির রান্নাঘরে প্রবেশ করে, সব বিষয়ে মতামত দেয় এবং ফলাফল প্রত্যাশা না হলে চাপ সৃষ্টি করে। এই ধরনের হস্তক্ষেপ প্রতিষ্ঠাতার মনোবল ও দলগত সাদৃশ্যকে নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক বিনিয়োগকারী নির্বাচনই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বিনিয়োগ চুক্তি করার আগে, সাগালভ প্রতিষ্ঠাতাদের বর্তমান পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এই সংযোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর বাস্তব আচরণ, সহায়তা স্তর এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ফলে ভুল বিনিয়োগকারী নির্বাচন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, প্রতিষ্ঠাতা দল গঠন, ইকুইটি বণ্টন এবং ক্ষতিপূরণ নীতি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা স্টার্টআপের টেকসই বৃদ্ধির ভিত্তি। একই সঙ্গে, এমন বিনিয়োগকারী নির্বাচন করা জরুরি, যারা দলকে সমর্থন করে এবং অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করে। এই নীতিগুলো মেনে চললে কোম্পানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
ভবিষ্যতে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের পরিপক্কতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, সঠিক দল গঠন ও বিনিয়োগকারী নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে। সাগালভের এই পরামর্শগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।



