কর্ণাটক ও জম্মু ও কাশ্মীর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হাবলি, কর্ণাটকের উত্তরের শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রানজি ট্রফি ফাইনালের মুখোমুখি হবে। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা যায় যে হাবলি এই মর্যাদাপূর্ণ দেশীয় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
ফাইনালের স্থান নিশ্চিত করার শেষ সময়সীমা আজকের শেষের দিকে নির্ধারিত, ফলে আগামীকাল পর্যন্ত হাবলিতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিশ্চিত হবে। যদিও এখনও কোনো প্রেস রিলিজ প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে উত্তর কর্ণাটকের এই শহরটি নির্বাচিত হয়েছে।
কর্ণাটকের ১৫তম ফাইনাল উপস্থিতি এই ম্যাচকে ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রদান করে। দলটি পূর্বে ১৪ বার ফাইনালে পৌঁছেছে, তবে এইবারের চ্যালেঞ্জটি বিশেষ কারণ তারা উটরাখন্ডের সঙ্গে ড্র ম্যাচের পর প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে সেমিফাইনাল জিতেছে। উটরাখন্ডের সঙ্গে ম্যাচে স্কোর সমান হলেও, প্রথম ইনিংসে অর্জিত অতিরিক্ত রানের কারণে কর্ণাটক সেমিফাইনাল থেকে অগ্রসর হয়েছে।
অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এই ফাইনালটি প্রথমবারের মতো। দলটি পূর্বে বাঙালকে পরাজিত করে ফাইনালের সিট নিশ্চিত করেছে। বাঙালকে সরাসরি পরাজিত করে জম্মু ও কাশ্মীরের এই সাফল্য টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
ফাইনালের সময়সূচি অনুযায়ী, ম্যাচটি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উভয় দলের জন্য এই চার দিনের ম্যাচটি শিরোপা জয়ের শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। উভয় দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এবং তরুণ প্রতিভার সমন্বয় রয়েছে, যা ম্যাচকে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
কর্ণাটকের কোচ টিমের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, দলটি হাবলিতে গিয়ে স্থানীয় পিচের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করবে। জম্মু ও কাশ্মীরের কোচও একইভাবে পিচের গতি ও বাউন্স বিশ্লেষণ করে দলকে প্রস্তুত করতে বলছেন। উভয় দলে ব্যাটিং ও বোলিং দিক থেকে সমতা রয়েছে, ফলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর।
এই ফাইনালটি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে গণ্য হয়, এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটপ্রেমীরা হাবলিতে একত্রিত হয়ে শীর্ষ স্তরের ডোমেস্টিক ক্রিকেট উপভোগের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অনুমোদিত এই সিদ্ধান্তটি দেশের ক্রিকেট কাঠামোর শক্তি ও গভীরতা প্রদর্শন করে।
ফাইনাল ম্যাচের টিকিট সংক্রান্ত তথ্য এবং স্টেডিয়ামের সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর দেওয়া যাবে। উভয় দলের সমর্থকগণও তাদের দলকে উত্সাহিত করতে ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন, যা হাবলির স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রানজি ট্রফি ফাইনালের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ভক্তরা আবারও দেশের সেরা ডোমেস্টিক টিমগুলোর মুখোমুখি হওয়ার উত্তেজনা অনুভব করবেন।



