24 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারিলায়েন্সের ১১০ বিলিয়ন ডলারের AI অবকাঠামো পরিকল্পনা প্রকাশ

রিলায়েন্সের ১১০ বিলিয়ন ডলারের AI অবকাঠামো পরিকল্পনা প্রকাশ

নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া AI ইম্প্যাক্ট সামিটে রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুখ্যমন্ত্রী মুকেশ অম্বানি ১০ ট্রিলিয়ন টাকার (প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার) AI কম্পিউটিং অবকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনা আগামী সাত বছর ধরে দেশের AI সক্ষমতা বাড়াতে লক্ষ্য করে।

অম্বানি উল্লেখ করেন, এই তহবিল দিয়ে গিগাওয়াট-স্কেল ডেটা সেন্টার, সমগ্র দেশে এজ কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক এবং জিও টেলিকম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন AI সেবা গড়ে তোলা হবে।

রিলায়েন্স ইতিমধ্যে গুজরাটের জামনগরে বহু গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার নির্মাণ শুরু করেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ১২০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতা চালু হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগটি দেশের AI বিনিয়োগের প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করে। একই সপ্তাহে আদানি গ্রুপ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের AI ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

ভারত সরকারও আগামী দুই বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি AI অবকাঠামো ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা রিলায়েন্সের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গ্লোবাল টেক ফার্মগুলোর অংশগ্রহণও বাড়ছে। ওপেনএআই টাটা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট AI ক্ষমতা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে, যা শেষ পর্যন্ত ১ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অম্বানি জোর দিয়ে বলেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রযুক্তি গড়ে তোলা দেশের জন্য অপরিহার্য, কারণ “বুদ্ধিমত্তা ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয়”। রিলায়েন্স AI সেবার খরচ কমিয়ে মোবাইল ডেটা মূল্যের হ্রাসের মতো প্রভাব ফেলতে চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান AI বিকাশে সবচেয়ে বড় বাধা হল কম্পিউটিং ক্ষমতার ঘাটতি ও উচ্চ খরচ, মানবসম্পদ বা ধারণার অভাব নয়।

এই অবকাঠামো নির্মাণে রিলায়েন্সের সবুজ শক্তি সম্পদ সহায়তা করবে; গুজরাট ও অন্ধ্র প্রদেশের সৌর প্রকল্প থেকে ১০ গিগাওয়াটের বেশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

কোম্পানি ভারতীয় শিল্প, স্টার্টআপ এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে উৎপাদন, লজিস্টিক, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক সেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে AI সংযোজনের লক্ষ্য রাখে।

জিও ইতিমধ্যে AI পার্টনারশিপে সক্রিয়, গত বছর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা তার নেটওয়ার্কে AI সেবা একীভূত করার ভিত্তি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন, রিলায়েন্সের বৃহৎ স্কেলের বিনিয়োগ দেশের AI ইকোসিস্টেমকে ত্বরান্বিত করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

কম্পিউটিং ক্ষমতার স্কেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে AI সেবার দাম হ্রাস পাবে, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ সহজ করবে।

তবে উচ্চ মূলধন ব্যয় এবং দক্ষ কর্মশক্তির প্রয়োজনীয়তা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যায়; এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

রিলায়েন্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের ডেটা সেন্টার ২০২৬ সালের শেষের দিকে চালু হবে, এরপর ধীরে ধীরে গিগাওয়াট ক্ষমতা অর্জন করা হবে।

এই উদ্যোগটি ভারতের AI ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্থান বাড়াবে এবং দেশীয় প্রযুক্তি স্বনির্ভরতার ভিত্তি মজবুত করবে।

সামগ্রিকভাবে, রিলায়েন্সের ১১০ বিলিয়ন ডলারের AI অবকাঠামো প্রকল্প, আদানি গ্রুপ ও ওপেনএআইয়ের সমান্তরাল বিনিয়োগের সঙ্গে মিলিয়ে, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments