মেজর লিগ সকার (এমএলএস) এই গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে লিগের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। লীগ কর্তৃপক্ষের মতে, বিশ্বকাপের গ্লোবাল দৃষ্টি ও নতুন দর্শকসংখ্যা এমএলএসের জন্য ‘রকেট ফুয়েল’ সরবরাহ করবে।
১৯৯৪ সালে ফিফা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপের আয়োজনের অনুমতি দেয়, তবে শর্ত ছিল দেশের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্লাব লিগের উপস্থিতি। ১৯৮৫ সালে নর্থ আমেরিকান সকার লিগের পতনের পর থেকে কোনো স্থায়ী লিগ ছিল না, ফলে ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
দুই বছর পর, ১৯৯৬ সালে এমএলএসের সূচনা হয় এবং তা থেকে আজ পর্যন্ত টিকে আছে। প্রথম বিশ্বকাপের এই ‘বাম্প’ লিগের প্রতিষ্ঠা ও প্রাথমিক সাফল্যের ভিত্তি গঠন করে। তখনের এক্সিকিউটিভরা টুর্নামেন্টের কিছু উজ্জ্বল খেলোয়াড়কে আমন্ত্রণ জানায় এবং দশটি দলের অধিকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের প্রধান খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন, যদি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ না হতো, তবে এমএলএসের জন্মই না হতে পারত; আর প্রথম বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছাড়া লিগের প্রারম্ভিক পর্যায়ে টিকে থাকা কঠিন হতো। সেই সময়ের এই উত্থান লিগের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিটি চার বছর পর, আমেরিকান সকারের বিভিন্ন স্তরে একই ধারণা পুনরাবৃত্তি হয়: বিশ্বকাপের বিশাল দর্শকসংখ্যা ও মিডিয়া মনোযোগকে কাজে লাগিয়ে এমএলএসের জনপ্রিয়তা বাড়ানো। বিশেষ করে যখন বিশ্বকাপের আয়োজনকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে, তখন লিগের অভ্যন্তরে এই সুযোগকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করার ইচ্ছা তীব্র হয়।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আয়োজনের প্রস্তুতি চলাকালীন, এমএলএসের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং সমর্থকগণ এই ইভেন্টকে লিগের জন্য এক বিশাল ত্বরান্বিতকারী হিসেবে দেখছেন। কমিশনার ডন গারবার বারবার উল্লেখ করেছেন, এই টুর্নামেন্টের প্রভাব লিগের বিস্তার ও আমেরিকান সকারের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গারবারের মতে, আগামী দশকে এমএলএস ও উত্তর আমেরিকান সকারের সম্ভাবনা পুনঃসংজ্ঞায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের আলোকে উত্তর আমেরিকা নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়িত হবে এবং তা লিগের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, লিগের পরিচালনা দল বিশ্বকাপের আগে ও পরে বিভিন্ন মার্কেটিং ও সম্প্রচার কৌশল গড়ে তুলছে। লক্ষ্য হল নতুন ভক্তদের আকৃষ্ট করা, টিকিট বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং স্পনসরশিপের আয় বাড়ানো।
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের শর্ত পূরণ না হলে এমএলএসের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হতো। তাই বর্তমানের পরিকল্পনা কেবল আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং লিগের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রে সকারের প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমএলএসের ম্যাচের টেলিভিশন রেটিং ও স্টেডিয়াম উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রবণতা লিগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, এমএলএসের নেতৃত্ব বিশ্বকাপকে লিগের জন্য এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং তা ব্যবহার করে পরবর্তী দশকে আমেরিকান সকারের মানদণ্ডকে নতুনভাবে গঠন করতে চায়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লিগের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার একত্রে কাজ করছে, যাতে বিশ্বকাপের উন্মাদনা লিগের স্থায়ী বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত হয়।
এমএলএসের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই উদ্যোগ লিগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে, যা অতীতের ‘বিশ্বকাপ বাম্প’ের মতোই রূপান্তরমূলক প্রভাব ফেলতে পারে।



