কুষ্টিয়া পৌর বাজারে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা সরাসরি তদারকি করেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধ করে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অভিযানের সময় বাজার তদারকি দল মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত দামের উপরে পণ্য বিক্রির অভিযোগে দুইটি দোকানকে জরিমানা করে। ফলের দোকানকে দুই হাজার টাকা এবং মুদি দোকানকে এক হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। জরিমানা আরোপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোকে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মোট চারটি দোকানে তদারকি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদারকি করা দোকানগুলো মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতা, যাদের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণের সরাসরি প্রভাব পড়ে। এই ধরনের তদারকি বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অনিয়মিত মূল্য নির্ধারণের সম্ভাবনা কমাতে সহায়ক।
অভিযান চলাকালীন ব্যবসায়ীদেরকে বাজারের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি না করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ব্যবসায়ীরা যদি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে দাম বাড়ায়, তবে তা অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে। এই নির্দেশনা বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এছাড়াও কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি করে বাজার অস্থির করার প্রচেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। এই সতর্কতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্ব-নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করে এবং অনিয়মিত কার্যকলাপের ঝুঁকি কমায়।
বাজারে এই ধরনের তদারকি নীতি রমজান মাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত থাকে এবং মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি গৃহস্থালীর ব্যয়কে প্রভাবিত করে। নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করে যে, মৌলিক পণ্যের দাম অপ্রয়োজনীয়ভাবে না বাড়ে, ফলে গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে পারেন।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান বাজারের মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তদারকি এবং জরিমানা ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ভোক্তাদের দৃষ্টিতে, এই ধরনের তদারকি স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দেয় এবং গ্রাহকের আস্থা জোরদার করে। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গৃহস্থালীর ব্যয় পরিকল্পনা সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ কমে। ফলে, বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা স্থিতিশীল থাকে।
ভবিষ্যতে যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি চালিয়ে যায়, তবে অনিয়মিত মূল্য নির্ধারণের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা বাড়বে। তবে, সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা এবং অনিয়মিত বিক্রেতাদের প্রতিরোধের জন্য কঠোর শাস্তি ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন থাকবে। এই ধারাবাহিক তদারকি বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।



