বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০২৬ সালের জন্য জাতীয় দলের ২৮ জন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রকাশ করেছে। এই চুক্তি শীর্ষ পর্যায়ের পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাঁচটি বেতন গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় ‘এ প্লাস’ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
গ্রেডভেদে মাসিক বেতন নির্ধারিত হয়েছে: ‘ডি’ গ্রেডে ২ লাখ টাকা, ‘সি’ গ্রেডে ৪ লাখ টাকা, ‘বি’ গ্রেডে ৬ লাখ টাকা, ‘এ’ গ্রেডে ৮ লাখ টাকা এবং ‘এ প্লাস’ গ্রেডে ১০ লাখ টাকা। মোট পাঁচটি গ্রেডের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ বেতন যদিও নির্ধারিত, তবে এই বছরে তা কোনো খেলোয়াড়ের জন্য প্রযোজ্য হয়নি।
‘এ’ গ্রেডে চারজন খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশিত হয়েছে। নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস এবং তাসকিন আহমেদ এই গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত। নাজমুল টেস্ট দলের অধিনায়ক, মিরাজ ওয়ানডে, লিটন টি-টুয়েন্টি এবং তাসকিন গত বছর ‘এ প্লাস’ গ্রেডে ছিলেন, তবে এবার ‘এ’ গ্রেডে নাম লেখায়।
‘বি’ গ্রেডে সর্বোচ্চ সংখ্যা, একাদশ খেলোয়াড়ের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাওহিদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ এবং নাহিদ রানা এই গ্রেডে রয়েছেন। তাদের মাসিক বেতন ছয় লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
‘সি’ গ্রেডে ছয়জন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সৌম্য সরকার, জাকের আলী, শরীফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, নাসুম আহমেদ এবং খালেদ আহমেদ এই গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত। ‘সি’ গ্রেডের বেতন চার লাখ টাকা, যা তাদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বোর্ড উল্লেখ করেছে।
‘ডি’ গ্রেডে সাতজন খেলোয়াড়ের বেতন দুই লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তানভীর ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, শামীম হোসেন এবং নুরুল হাসান এই গ্রুপে রয়েছেন। এই গ্রেডের খেলোয়াড়রা ভবিষ্যৎ প্রতিভা হিসেবে বিবেচিত এবং তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত।
চুক্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, নতুন চুক্তি খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্বচ্ছ বেতন কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। গ্রেডভিত্তিক বেতন ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখতে এবং দলীয় লক্ষ্য অর্জনে প্রেরণা জোগাবে।
এই বছরের চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ গ্রেডের অনুপস্থিতি বোর্ডের দৃষ্টিতে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কোনো খেলোয়াড় বর্তমানে এই শীর্ষ গ্রেডে নেই, তবে ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই গ্রেডে স্থান তৈরি হতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী সব খেলোয়াড়ের বেতন ২০২৬ সালের শুরুর থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী মৌসুমে দলীয় নির্বাচনে এই কাঠামো অনুসরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় চুক্তি শেষ হওয়ার আগে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পুনর্মূল্যায়ন করে গ্রেড পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



