বহুলোডি পরিচালক মোহিত সুরি, সাম্প্রতিক হিট ‘সায়ারা’র পরবর্তী প্রকল্পের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গ্যাংস্টার ও হত্যাকারীর পটভূমিতে গড়ে তোলা একটি বিশাল প্রেমকাহিনী ও সঙ্গীতময় চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা করেছেন, যার শুটিং শেষ ২০২৬ সালের মধ্যে শুরু করার লক্ষ্য। এই উদ্যোগে প্রযোজক আদিত্য চোপড়া, যিনি ইয়াশ রাজ ফিল্মসের মুখ্য চিত্রনির্মাতা, পূর্ণ সমর্থন প্রদান করছেন।
‘সায়ারা’র বাণিজ্যিক সাফল্য মোহিতের আত্মবিশ্বাসকে ত্বরান্বিত করেছে এবং তাকে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য প্রেরণা দিয়েছে। আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে তার সহযোগিতা দু’জনকে ‘সায়ারা’র মতোই স্মরণীয় কিছু তৈরি করার ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছে।
নতুন ছবির মূল ধারণা হল প্রেম ও সঙ্গীতের সমন্বয়ে গ্যাংস্টার জগতের অন্ধকারকে আলোকিত করা। গল্পে গ্যাংস্টার, হত্যাকারী এবং রোমান্টিক সম্পর্কের জটিলতা একসঙ্গে বুনে একটি নাটকীয় পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সঙ্গীতের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা চলচ্চিত্রের আবেগময় স্তরকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মোহিত সুরি ইতিমধ্যে স্ক্রিপ্টটি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন এবং প্রি‑প্রোডাকশন কাজ শুরু হয়েছে। শুটিংয়ের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যাতে ২০২৬ সালের শেষের দিকে ক্যামেরা চালু করা যায়। এই সময়সীমা পূরণের জন্য দলটি দ্রুত কাজ করছে।
প্রধান চরিত্রের জন্য রনবীর কাপুরকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রনবীরের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
মোহিতের রনবীরের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন বহু বছর আগে থেকেই ছিল। ‘সায়ারা’র সাফল্য এবং আদিত্য চোপড়ার সমর্থন তাকে রনবীরকে কাস্টে আনতে সক্ষম করেছে। এই সুযোগটি দুই শিল্পীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
রনবীর স্ক্রিপ্টটি পর্যালোচনা করে বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি চলচ্চিত্রের থিয়েটারিক সম্ভাবনা এবং সঙ্গীতের বিশাল পরিসরকে প্রশংসা করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে একটি স্মরণীয় প্রেমকাহিনী হতে পারে।
তবে রনবীরের সময়সূচি বর্তমানে ব্যস্ত। ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এবং ‘রামায়ণ’ প্রকল্পের দেরি তার শিডিউলে বাধা সৃষ্টি করেছে, ফলে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সিদ্ধান্তের সময়সীমা মধ্য ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে।
মোহিত ও আদিত্য চোপড়া রনবীরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করলেও, চলচ্চিত্রের শুটিং পরিকল্পনা অগ্রসর রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রনবীর প্রত্যাখ্যান করলেও অন্য অভিনেতা দিয়ে প্রকল্পটি চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়।
বহুলোডি শিল্পের নজর এখন রনবীরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে কেন্দ্রীভূত। যদি তিনি সম্মতি দেন, তবে এটি তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেমচিত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, অন্য কোনো মুখে এই প্রকল্পের মুখোমুখি হলে তা নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিতে পারে।
প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে ইতিমধ্যে সঙ্গীত পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং আর্ট ডিরেক্টরদের সঙ্গে সমন্বয় কাজ চলছে। গ্যাংস্টার থিমের জন্য প্রয়োজনীয় লোকেশন স্কাউটিং এবং সেট ডিজাইন দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মোহিত সুরির এই নতুন উদ্যোগটি গ্যাংস্টার জগতের সঙ্গে সঙ্গীতের মিশ্রণকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখে, এবং রনবীর কাপুরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ চলচ্চিত্রের আকর্ষণ বাড়াবে। শিল্পের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং শেষ পর্যন্ত কোন মুখে এই গল্পের মুখোমুখি হবে তা সময়ই বলবে।



