সিলেটের ভারতীয় সহায়ক উচ্চ কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, ভারতের সব ধরণের ভিসা সেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপটি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত শুধুমাত্র চিকিৎসা ভিসা এবং দ্বি-প্রবেশ ভিসা ইস্যু করা হচ্ছিল; এখন থেকে পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাসের মতে, নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং সেবা মান উন্নত হবে।
ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভিসা সেবা সহজলভ্য করা কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী বন্ধনের প্রতিফলন।
দাস আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের নাগরিকই এই সম্পর্কের মূল অংশীদার। তিনি বলেন, জনগণের চলাচল ও পারস্পরিক যোগাযোগই স্থিতিশীল, গঠনমূলক ও পারস্পরিক উপকারী সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভিসা সেবার উন্নতি সরাসরি জনগণের মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত।
ভৌগোলিক নিকটতা, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সীমান্তের পারস্পরিক সুবিধা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোকে বিস্তৃত করা সম্ভব। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা উভয় দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
সম্মেলনটি সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ময়ন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে আলোচনা চালানো হয়। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং উভয় পক্ষের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পেয়েছেন।
অবশেষে, দাস ভবিষ্যতে ভিসা প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণ এবং আরও বিস্তৃত সেবা প্রদানকে লক্ষ্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আশাবাদী যে, এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



