বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারী সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ডের সূচনা সম্পর্কিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনা করেন।
সভার প্রধানতায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি সভার শুরুর দিকে উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব ও সময়সূচি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পরিবারভিত্তিক সহায়তা পদ্ধতি দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচিত কয়েকটি অঞ্চলে প্রথম ধাপের পাইলট চালু করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও সভায় উপস্থিত থেকে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি পরিবার—যাদের মধ্যে হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও পশ্চাৎপদ গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত—কে ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মৌলিক আর্থিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কর্মপরিকল্পনার বিশদ বিষয় যেমন কার্ডের বিতরণ পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন। সকল মন্ত্রণালয় একমত যে, কার্যকর সমন্বয় ও সময়মত বাস্তবায়ন প্রকল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত ১০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ শুরু হবে এবং ফলাফল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুরো দেশের জন্য ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস গঠন করা হবে, যাতে গ্রাহকের তথ্য সঠিকভাবে রেকর্ড ও আপডেট করা যায়।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সরকারী পক্ষের মতে, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য দ্রুত সহায়তা প্রদান করা সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াবে। তবে, বিরোধী দলগুলোও নজর রাখবে যে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে হচ্ছে কিনা, যাতে কোনো ধরণের বৈষম্য বা দুর্নীতি না ঘটে। ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকারিতা ও প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে নীতি সমন্বয় করা হতে পারে, যা দেশের সামাজিক কল্যাণ নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



