মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনী সাফল্যকে প্রশংসা করে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠন করেন, যা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভেচ্ছা চিঠি বাংলাদেশ মন্ত্রণালয় অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্সের এক্স (টুইটার) পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়।
চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, দুই দেশের অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সম্মান ও মুক্ত, উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবেশ গড়ে তোলার যৌথ লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীন ও শক্তিশালী দেশগুলোকে সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করা উভয় পক্ষের স্বার্থ।
ট্রাম্পের মতে, তারেক রহমানের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কের গতি বজায় রাখতে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য সুবিধা নিয়ে আসে, যা দু’দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের, আমেরিকান উৎপাদিত সরঞ্জাম অর্জন করতে পারে। ট্রাম্পের মতে, এসব সরঞ্জাম বিশ্বমানের সেরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে তার দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস প্রকাশ করেন এবং দু’দেশের মধ্যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগকে গুরুত্ব দেন। তিনি দু’দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত কয়েক বছরে মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উভয় দেশের সরকারী নীতির ফলাফল। ট্রাম্পের এই শুভেচ্ছা চিঠি এই ইতিবাচক প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করার সংকেত দেয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠির বিষয়বস্তু এক্সে প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জানায় যে দু’দেশের সম্পর্কের প্রতি উভয় পক্ষই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।
আসন্ন মাসগুলোতে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ধাপগুলো সম্পন্ন করা এবং রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক এবং সামরিক কর্মীদের সরাসরি উপকার হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।
ট্রাম্পের উল্লেখিত দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ভূমিকা দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে ত্বরান্বিত করবে, বিশেষত বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি তারেক রহমানের শাসনামলে মার্কিন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা বাণিজ্য, কৃষি, শ্রম এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভিত্তিক।



