ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা-তে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সি শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ রানের পার্থক্যে ইটালিকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। দু’দল ২০ ওভারের সীমাবদ্ধতায় মুখোমুখি হয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ করে। এই জয় দলকে অপরাজিত রাখে এবং টেবিলের শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিমধ্যে সুপার ৮-এ স্থান নিশ্চিত করলেও, গ্রুপের শীর্ষে শেষ করতে এবং অপরাজিত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয়। উচ্চ স্কোরিং গৃহে ১৬৫ রান গড়ে তুলতে শামার জোসেফের ৪ উইকেট (৪-৩০) এবং ম্যাথিউ ফোর্ডের ৩ উইকেট (৩-১৯) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শাই হোপের নেতৃত্বে দলটি শুরুর দিকে কিছুটা ঝুঁকিতে পড়লেও, মাঝামাঝি অংশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
ইটালি টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় এবং শুরুর ওভারে ব্র্যান্ডন কিং ও শিম্রন হেটমায়ারকে দ্রুত আউট করে শুরুর চাপ সৃষ্টি করে। তবে শাই হোপ ৪৬ ball-এ ৭৫ রান করে, ছয়টি চতুর্ভুজ এবং চারটি ছয়ের মাধ্যমে ইনিংসকে সুরক্ষিত করে। তার আক্রমণাত্মক শটগুলো দলকে দ্রুত ১০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়, যা পরবর্তী অংশে রস্টন চেজের সঙ্গে ৬৪ রান পার্টনারের ভিত্তি গড়ে তোলে।
রস্টন চেজের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটের জন্য গড়ে ৬৪ রান যোগ করার পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৯৫/২ থেকে ১১৫/৫-এ নেমে আসে, কারণ বেন মানেন্টি একসাথে দুইটি উইকেট নেয়। এই সময়ে শেরফেন রুথারফোর্ড ১৫ ball-এ ২৪* এবং ম্যাথিউ ফোর্ড ৮ ball-এ ১৬* দ্রুত রান যোগ করে, দলকে ১৬৫/৬ স্কোরে স্থিতিশীল করে। শেষের ওভারে দ্রুত রেট বজায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লক্ষ্য অর্জন করে, যদিও ইটালি মাঝামাঝি পর্যায়ে স্কোরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
ইটালির শিকারের সূচনা কঠিন হয়, কারণ ম্যাথিউ ফোর্ড প্রথমে জাস্টিন মোস্কা এবং সাইদ নাকভি দুজনকে আউট করে, ফলে অর্ধেক ওভার শেষে স্কোর ৬১/৪ থাকে। পাওয়ারপ্লে সময়ে ধারাবাহিক উইকেটের ফলে রেট বাড়তে থাকে, যদিও জে.জে স্মুটস ২৭ ball-এ ২৪ রান এবং বেন মানেন্টি ২১ ball-এ ২৬ রান যোগ করে মাঝের অংশে কিছুটা স্থিতি আনে। তবে প্রয়োজনীয় রেট দ্রুত বাড়তে থাকে, যা ইটালির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
শামার জোসেফের শেষের ওভারে ৪ উইকেট (৪-২৪) নেওয়া এবং একই সঙ্গে চারটি ক্যাচ নেওয়া একটি বিরল পারফরম্যান্স হিসেবে রেকর্ড হয়, যা পুরুষ ও নারী টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। তার এই স্পেল ইটালির ব্যাটিংকে সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দেয়, এবং দলটি ১৮ ওভারে ১২৩ রানে আউট হয়ে যায়। শামার জোসেফের এই শট-ইন-ফিল্ড পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে দৃঢ় করে এবং স্কোরের পার্থক্যকে ৪২ রানে স্থায়ী করে।
ম্যাচের শেষে শাই হোপকে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের সম্মান প্রদান করা হয়, তার ৭৫ রান এবং দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় তাদের অপরাজিত রেকর্ডকে এক ম্যাচ বাড়িয়ে দেয় এবং সুপার ৮-এ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশের প্রস্তুতি নিশ্চিত করে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি গ্রুপের অন্য শীর্ষ দলকে মুখোমুখি হবে, যেখানে শীর্ষস্থান বজায় রাখতে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা রয়েছে।
ইটালির জন্য এই পরাজয় একটি কঠিন শিক্ষা, যদিও জে.জে স্মুটস এবং বেন মানেন্টির মাঝের অংশে কিছুটা প্রতিরোধ দেখা গিয়েছিল। তবে শুরুর উইকেটের ঘাটতি এবং রেটের দ্রুত বৃদ্ধি তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। দলটি ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে কৌশলগত পরিবর্তন এবং ব্যাটিং শর্তের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে, শামার জোসেফের বহুমুখী পারফরম্যান্স এবং শাই হোপের স্থিতিশীলতা দলকে পরবর্তী পর্যায়ে শক্তিশালী করে তুলবে।



