শিক্ষা মন্ত্রী অ্যানএম এহসানুল হক মিলন আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন, মোবের হুমকি বা জনসাধারণের চাপের ভিত্তিতে স্কুল‑কলেজের পরীক্ষা বাতিল করা বা অটো‑পাস প্রদান করা সরকারের নীতি নয়। তিনি নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর মতে, অতীতে কিছু সময়ে জনসামনের চাপের ফলে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন, পরীক্ষা বাতিল বা অটো‑পাসের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তিনি অনুচিত বলে উল্লেখ করেন। এসব পদক্ষেপ শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষুণ্ণ করে এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো পুনরায় বিশ্লেষণ না করে, সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে। মিলন জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও জ্ঞান উভয়ই সমৃদ্ধ হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছে। প্রশ্নপত্রের বিতরণ ও পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে, যাতে কোনো ধরণের বাধা না হয়ে পরীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
শিক্ষকবৃন্দের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন: শিক্ষকগণ ক্লাসরুমে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, অফিস সময়ে কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলনে অংশ নেবেন না। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকের মূল কাজ হল শিক্ষার্থীর জ্ঞান গঠন, যা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে ব্যাহত হতে পারে না।
শিক্ষকদের দাবি ও অভিযোগের সমাধান যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে করা হবে, তা মন্ত্রী নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দাবিগুলো যথাযথ পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হলে সরকার সেগুলো বিবেচনা করবে, তবে রাস্তায় দখলদারিত্বের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজনীয় নয়।
শিক্ষকদের প্রতি মন্ত্রী সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করে বলেন, শিক্ষকগণ হলেন জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার মূল স্তম্ভ। সরকার তাদের পাশে থাকবে, তবে প্রত্যেক শিক্ষককে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার মান উন্নয়নে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভিত্তিক মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে, মন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের লঞ্চ, ঘুষ বা অনৈতিক কার্যকলাপ এই মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা কঠোরভাবে শাস্তি পাবে।
ইংরেজি-মাধ্যমিক স্কুলের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, সেগুলোও সরকারী নিয়মের আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আইন ভঙ্গ করে বা অনিয়ম করে, তবে সংশ্লিষ্ট শাস্তি কার্যকর করা হবে, যাতে সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনার বিদ্যালয়ে যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে আবেদন করুন; রাস্তায় প্রতিবাদ না করে সমাধান খোঁজা অধিক কার্যকর হতে পারে।



