চট্টগ্রাম মহানগরের চাঁন্দগাঁও থানা অধীনে মধ্যম মোহরা এলাকায় ‘মায়ামী ভিলা’ নামের বহুতল ভবনে র্যাবের অভিযান চালানো হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যাবেলায় মুর্শিদা আকতার, ৪৮ বছর বয়সী এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সঙ্গে ৫১ কেজি গাঁজা ও ২৩ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।
অভিযানটি র্যাব‑৭ এর বিশেষ দলে পরিচালিত হয় এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে করা হয়। র্যাবের জানানো মতে, মধ্যম মোহরা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিশাল পরিমাণ মাদকদ্রব্য সংরক্ষিত ছিল এবং বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘মায়ামী ভিলা’ নামের ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অনুসন্ধান করা হয়।
ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে তিনটি সাদা ও একটি হলুদ রঙের প্লাস্টিকের ব্যাগে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় গাঁজা পাওয়া যায়। ব্যাগগুলোকে বিশেষভাবে মোড়ানো ছিল যাতে গন্ধ ও দৃশ্যমানতা কমে। এছাড়া একটি ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে ২৩ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়, যা সাধারণত গাঁজা চাষে ব্যবহৃত হয়।
র্যাবের হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা। ফেন্সিডিলের সুনির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ না করা হলেও, তা গাঁজা চাষে গুরুত্বপূর্ণ রসায়নিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত। মোট জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ও মূল্য অনুসারে, এটি অঞ্চলের বৃহৎ মাদক সরবরাহ চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
গ্রেফতারকৃত মুর্শিদা আকতার কক্সবাজার জেলার সদর থানার উত্তর কুতুবদিয়া পাড়ার মৃত আবুল বাশারের কন্যা। তার পরিবারিক পটভূমি ও পূর্বের কোনো অপরাধের রেকর্ড উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই গ্রেফতার তার মাদক ব্যবসায়িক সংযোগের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র্যাব‑৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ঐ ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য সংরক্ষিত ছিল এবং বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযানে সফলভাবে মাদকদ্রব্য জব্দ ও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মুর্শিদা আকতারকে ‘মাদক দেহে’ (মাদক ব্যবসা) ও ‘মাদক পাচার’ (মাদক সরবরাহ) সংক্রান্ত আইনের অধীনে অপরাধী হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গাঁজা, ফেন্সিডিল এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের অবৈধ মালিকানা ও বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্টে হিয়ারিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। র্যাব ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবেন এবং জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিশ্লেষণ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও সম্ভাব্য সহযোদ্ধা চিহ্নিত করার কাজ করবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক চোরাচালান বাড়ছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বেড়েছে। র্যাবের এই ধরণের অভিযান স্থানীয় মাদক নেটওয়ার্ককে দমন করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়। বিশেষ করে গাঁজা ও ফেন্সিডিলের মতো চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত রসায়নিক পদার্থের সরবরাহ বন্ধ করা অপরাধের মূল শিকড় কাটার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসা দমন করতে গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার ও দ্রুত পদক্ষেপ অপরিহার্য। ভবিষ্যতে একই রকম গোপন সূত্র পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধ করা হবে।
এই ঘটনার সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তদন্ত চলাকালীন কোনো গুজব বা অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকার রক্ষা পায়।



