30 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইদের আগে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট চালু, সরকার রমজানে জনসাধারণের সহায়তা বাড়াবে

ইদের আগে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট চালু, সরকার রমজানে জনসাধারণের সহায়তা বাড়াবে

১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়িক বৈঠকে রমজান মাসের শেষের দিকে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি ঈদুল ফিতরের আগে জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ত্বরান্বিত করা হবে।

বৈঠকে সরকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য হল ন্যূনতম শর্তে সকল গৃহস্থালিকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা, যাতে বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো কঠোর যোগ্যতা মানদণ্ড আরোপ না করে, উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে ধীরে ধীরে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মিন্টু মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কার্ডের বিতরণ প্রক্রিয়া, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে। সফল ফলাফল পাওয়া গেলে, একই মডেলকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদ্ধতি সরকারকে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পৌঁছাতে এবং বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা থেকে উদ্ভূত মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করবে।

প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো ও তহবিলের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বাজেটের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তদুপরি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

বামপন্থী সিপিবি এই উদ্যোগের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা উল্লেখ করেছে যে আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণভাবে চালু না হলে বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। মন্ত্রী মিন্টু এসব উদ্বেগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক কাজ চালু করেছে এবং কোনো অনিশ্চয়তা নেই।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকার বিশেষভাবে পেঁয়াজ, চাল, তেল ইত্যাদি নিত্যপণ্যের ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ বাড়াতে চায়। রমজানের প্রথম সপ্তাহে এই পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা গৃহস্থালির ব্যয়বহুলতা বাড়িয়ে তুলেছিল। সরকারী দপ্তরগুলো এই সমস্যার সমাধানে কার্ডের ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঢাকা ও গাজীপুরের কিছু নির্বাচিত এলাকায় কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য জেলা ও শহরে প্রসারিত করা হবে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার করে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে, যাতে সুবিধাভোগীরা সহজে কার্ড পেতে পারে।

মন্ত্রীর মতে, পাইলট পর্যায়ে সংগ্রহিত তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বৃহত্তর স্কেলে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য কেবল দারিদ্র্য হ্রাস নয়, বরং বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং দুর্বল গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। সরকারকে ভোটের আগে জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে, বিশেষ করে ঈদ উৎসবের আগে এই প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

বিপুল জনসাধারণের প্রত্যাশা রয়েছে যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারী হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে। যদি পাইলট পর্যায়ে লক্ষ্য অর্জিত হয়, তবে এটি সরকারকে সামাজিক কল্যাণ নীতি বাস্তবায়নে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করবে, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার রমজান মাসের শেষের দিকে ফ্যামিলি কার্ড পাইলট চালু করে ঈদুল ফিতরের আগে নিত্যপণ্যের সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের কমিটি, ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থা এবং বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পটি রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments