30 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানীলফামারীতে রমজানে দাম স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ বাজার নজরদারি শুরু

নীলফামারীতে রমজানে দাম স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ বাজার নজরদারি শুরু

রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, নীলফামারী জেলার শাখামাছা বাজারে রমজান মাসে মূল দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এই পর্যবেক্ষণকে নেতৃত্ব দেন। এই উদ্যোগের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে, যা পুরো জেলায় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক দলের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল ইসলাম এবং জেলা বাজার অনুসন্ধানকারী এ.টি.এম. এরশাদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ ও অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন সনাক্ত করা। দলটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বাস্তব সময় তথ্য সংগ্রহ করেছে।

নিরীক্ষণের সময় ব্যবসায়ীদেরকে দাম বৃদ্ধি না করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং রমজানের বিশেষ চাহিদা মেটাতে মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সিন্দিকেট গঠন প্রতিরোধে সতর্কতা জোরালোভাবে দেওয়া হয়। বাজারে সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিক্রেতাদেরকে সঠিক স্টক রেকর্ড বজায় রাখতে বলা হয়।

জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান উল্লেখ করেন, কোনো পরিস্থিতিতে সিন্দিকেট গঠন রোধে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রমজান মাসে জনগণকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। এই ধরনের তৎপরতা বাজারে অস্থিরতা কমিয়ে ভোক্তাদের আস্থা বাড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে এই নজরদারি কার্যক্রমকে দৈনিক ভিত্তিতে চালু রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, রমজানের পবিত্র মাসে মূল্যের অস্বাভাবিক ওঠানামা জনসাধারণের কষ্ট বাড়াতে পারে, তাই তা রোধে তৎক্ষণাত্ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ফলে, বাজারের প্রতিটি সেক্টরে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত হবে।

দাম স্থিতিশীলতা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করে এবং রমজানের খাবার ও মৌলিক পণ্যের সরবরাহে স্বচ্ছতা বজায় রাখে। বিশেষ করে ছোটখাটো বিক্রেতা ও রিটেইলারদের জন্য এই নীতি লাভজনক, কারণ তারা অতিরিক্ত মুনাফা না করে মূল্যের ন্যায্যতা বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে, মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তবে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যকর করতে বাজারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তথ্য সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি এবং আইনগত প্রয়োগের শক্তি প্রয়োজন। সিন্দিকেট গঠন বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা যদি গোপনে চালু থাকে, তবে তা সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও ভোক্তা সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

দৈনিক মনিটরিং চালু হলে মূল্য পরিবর্তনের প্রাথমিক সংকেত দ্রুত ধরা যাবে, ফলে সময়মতো হস্তক্ষেপ সম্ভব হবে। এই ধারাবাহিকতা সরবরাহ শৃঙ্খলায় কোনো বাধা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদে, বাজারে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা রমজান পরেও মূল্য স্থিতিশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, নীলফামারীর বাজারে রমজান মাসে দাম স্থিতিশীল রাখতে নেওয়া বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা ভোক্তা সুরক্ষা ও বাজার শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীর সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবে মূল্য অস্থিরতা কমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments