ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আটজন নতুন চিকিৎসককে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা ২৩-এ পৌঁছেছে, যা দীর্ঘদিনের কর্মী ঘাটতি কমাতে সহায়ক বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এবং নেক্সাস ইনোভেশন সংস্থা দ্বারা আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খানের উপস্থিতিতে, যিনি নতুন ডাক্তারদের হাতে যোগদানপত্র প্রদান করেন। তার পর গাইনোকোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রোকেয়া খাতুন একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন, যেখানে তিনি নতুন কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে তাদের ভূমিকা তুলে ধরেন। নেক্সাস ইনোভেশনের কর্মকর্তা দেবাশীষ রায়ও উপস্থিত থেকে সংস্থার সমর্থন ও সহযোগিতা সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
উপস্থাপনা অংশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মিশুক মাহমুদ একটি তথ্যবহুল স্লাইড শো উপস্থাপন করেন, যেখানে কমপ্লেক্সের বর্তমান সেবা পরিস্থিতি এবং নতুন ডাক্তারদের যোগদানের ফলে প্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উপস্থিত সকলই এই উপস্থাপনাকে তথ্যপূর্ণ ও উৎসাহজনক বলে প্রশংসা করেন।
নতুন যোগদানকারী ডাক্তারের তালিকায় নাহিয়া জামান তাপ্তি, মনীষা রানী বণিক, মো. আরাফাত, মনিরুল ইসলাম সজীব, মো. রায়হান উদ্দিন, অনুপ সাহা, আতিয়ার রহমান এবং সেফায়েত ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রত্যেককে ফুল ও উপহার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, যা উপস্থিতদের আন্তরিকতা ও সমর্থনকে প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানের শেষে ডা. হিমেল খান উল্লেখ করেন যে, আটজন নতুন ডাক্তার যোগদানের ফলে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের কিছুটা সমাধান হবে। তিনি আরও জানান যে, অতিরিক্ত পাঁচজন কনসালট্যান্টের নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডা. হিমেল খান আরও বলেন, নতুন ডাক্তারদের উপস্থিতি রোগীদের জন্য অপেক্ষার সময় কমাবে এবং বিশেষত গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় গতি আনবে। তিনি স্থানীয় জনগণকে নতুন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করে বলেন, “আপনার স্বাস্থ্যই আমাদের অগ্রাধিকার, তাই দয়া করে সময়মতো চিকিৎসা সেবা নিন।”
নেক্সাস ইনোভেশন সংস্থা এই ধরনের মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমকে সমর্থন করে চলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে। সংস্থার প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্য কর্মী বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়বে এবং রোগীর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে।
আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা এখন নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে; তবে রোগীর স্বাস্থ্যের ধারাবাহিক উন্নতির জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অতিরিক্ত সম্পদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য কর্মীরা একসাথে কাজ করে কীভাবে সেবা মান আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।



