১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারী সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়িক বৈঠকের পর মিডিয়াকে জানালেন যে, ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন শুরু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।
বৈঠকের সভাপতিত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকের শেষে মন্ত্রী স্বপন উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করা হবে।
স্বপন বলেন, “এই মাসের মধ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন কার্যক্রম চালু করব, যাতে ঈদ আগে প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যকে পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
ফ্যামিলি কার্ডের সংখ্যা ও বিতরণ পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি ছোট কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করবে, তবে এখনো টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়নি।
মন্ত্রীর মতে, প্রাথমিকভাবে প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারের জন্য কার্ড জারি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “টাকার পরিমাণের চেয়ে সব নারীর নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্তি আমাদের অগ্রাধিকার।” ভবিষ্যতে আর্থিক দিক থেকে উন্নতি করা সম্ভব হবে।
বিত্তশালী পরিবারগুলোও এই স্কিমের আওতায় আসবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্বপন স্পষ্ট করেন, “প্রথমে আমরা হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বিধবা পরিবারকে অগ্রাধিকার দেব। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সকল স্তরের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” এই ধারা সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আবদুল আউয়াল মিন্টু পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, “এই স্কিমটি সার্বজনীন হবে, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রথম ধাপে হতদরিদ্র পরিবারকে লক্ষ্য করে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, পাইলট প্রকল্পের রূপে প্রথম রোলআউট ঈদ আগে শুরু হবে। তিনি জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী চান, পাইলট হিসেবে ঈদ আগে এই ব্যবস্থা চালু হোক।” এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার দ্রুত ফলাফল পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ স্কেল আপ করার পরিকল্পনা করেছে।
ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত হয়। সরকার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডেটাবেস আপডেট করে, লক্ষ্য গোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহে অগ্রসর হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগর দু’প্রান্তের দরিদ্র পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট রোলআউটের পরবর্তী পর্যায়ে নীতি সমন্বয় ও তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে সরকারী কমিটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, পুরো বাংলাদেশে সমানভাবে কার্ড বিতরণ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড স্কিমের সফলতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকারী ও সামাজিক সংস্থাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সময়মতো করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার নারীর কল্যাণে নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে চায়।



