বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আজ রাতেই ঢাকা ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হয়েছে, যাতে তারা ১ থেকে ২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিতে পারে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, আফিদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমা, এই রাত্রিকালীন যাত্রায় অন্তর্ভুক্ত।
টুর্নামেন্টটি অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ গ্রুপ বি‑তে অবস্থান করবে। এই গ্রুপে রয়েছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, তিনবারের শিরোপাধারী চীন এবং উজবেকিস্তান। তাই দলকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।
গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ৩ মার্চ সিডনিতে নির্ধারিত, যেখানে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিটার বাটলার, যিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোচ। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউ-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর পুরো দল একত্রে প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিয়েছে, যেখানে কোচ বাটলারই প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। দলের মধ্যে রয়েছে সুইডেনের বাসিন্দা আনিকা, যিনি বিদেশে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নিয়ে দলকে সমর্থন দিচ্ছেন।
তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফু) বিদেশে ক্যাম্পের ব্যবস্থা করতে পারেনি, যা বড় মঞ্চে শক্তিশালী দলের মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। প্রাথমিকভাবে থাইল্যান্ডে ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাতিল হওয়ায় এখন মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দারা সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন।
সিডনিতে পৌঁছানোর পর দলটি স্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া যায় এবং ম্যাচের তীক্ষ্ণতা বাড়ে। এই ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দলকে ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে তীক্ষ্ণ করে তুলবে।
গ্রুপের তিনটি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য উজবেকিস্তানের সঙ্গে ৯ মার্চ পার্থে জয় নিশ্চিত করা। এই জয়টি দলকে সেরা দুই রানার্স‑আপের মধ্যে স্থান নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়াবে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এই টুর্নামেন্টকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং কোচের কৌশলগত নির্দেশনা মিলিয়ে দলটি সাফল্যের পথে অগ্রসর হতে চায়।



