টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভোরবেলায় কিছু ব্যক্তি ব্যানার খুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তৎক্ষণাৎ সমাবেশ করে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
উত্তোলনের পর সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাবেক সংসদ সদস্য ছোট মনিরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা উচিত, বিভেদের চিহ্ন ভুলে।
সুরুজের কথায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, দলীয় সংহতি বজায় রাখলে গোপালপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল হবে। তিনি সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে অতীতের বিরোধের ছায়া বর্তমানকে প্রভাবিত না করে।
বক্তব্যের পর উপস্থিত নেতাকর্মীরা “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত করে স্থান ত্যাগ করেন। সমাবেশের সময় কিছু অংশে হালকা সঙ্গীত এবং পতাকার শোভা দেখা যায়, যা স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিতে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে ধরা পড়ে।
সকাল দশটার পরে কিছু অশান্ত ব্যক্তি এসে ব্যানারটি খুলে ফেলেন বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই কাজটি ব্যানারটি পুনরায় টানার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
গোপালপুরে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর একদল অশান্ত ব্যক্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেই ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো সরকারী কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়নি।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম রুবেল ফজরের নামাজের সময় চুপিসারে এসে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটাবে।
বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকতও একই রকম মন্তব্য করে জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গোপালপুরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানই জনগণের স্বার্থসিদ্ধি হবে।
গোপালপুর থানার ওয়্যারিং অফিসার (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরবেলায় কয়েকজন এসে পরিত্যক্ত কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি বলেন, এই কাজটি কোনো অনুমোদিত অনুষ্ঠান নয়, তবে স্থানীয় কিছু নেতার উদ্যোগে করা হয়েছে।
ওসি হোসেন আরও জানান, ঘটনার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গোপালপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা কমে আসতে পারে।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ স্থানীয় নেতাদের সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সুরুজের আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
এই ঘটনার পর গোপালপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে, তবে আইন প্রয়োগের দৃঢ়তা এবং দলীয় নেতৃত্বের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



