২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পিভিআর ইনক্সের পর্দায় ২০০৪ সালের রাজনৈতিক নাটক ‘যুবা’ পুনরায় প্রদর্শিত হবে। দুই দশকের পর এই চলচ্চিত্রটি আবার বড়পর্দায় আসছে, যা শহরের তরুণদের অস্থিরতা ও স্বপ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি। চলচ্চিত্রের পুনঃপ্রদর্শনের ঘোষণা চলচ্চিত্র শিল্পের এক পরিচিত মুখ, এশা দেোলের ভিডিও বার্তায় জানানো হয়েছে।
এশা দেোল ভিডিওতে ‘যুবা’কে নিজের হৃদয়ের কাছাকাছি একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মণি রত্নমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সহঅভিনেতা অজয় দেবগণ, অভিষেক বচ্চন, বিবেক ওবেরয়ির সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। তার মতে, তরুণ-কেন্দ্রিক একটি ছবির অংশ হওয়া এবং আজও তা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা পুনঃপ্রদর্শনকে বিশেষ অর্থবহ করে তুলেছে।
‘যুবা’র তামিল সংস্করণ ‘আয়ুথা এঝুথু’তে প্রধান ভূমিকায় সুরিয়া ছিলেন, যা মূল সংস্করণের সঙ্গে কিছু পার্থক্য রেখে তৈরি করা হয়েছিল। মূল সংস্করণে কলকাতার তিনজন তরুণের জীবনকে ছাত্র রাজনীতি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নৈতিক দ্বিধার পটভূমিতে বুনে দেখানো হয়েছে। মণি রত্নমই চলচ্চিত্রের লেখক, নির্মাতা এবং পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন, যা তার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক মন্তব্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
চিত্রে অজয় দেবগণ, অভিষেক বচ্চন, বিবেক ওবেরয়ি, রানি মুখার্জি এবং করিনা কাপুরসহ একটি শক্তিশালী কাস্ট রয়েছে। প্রত্যেক চরিত্রের ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং সমষ্টিগত লক্ষ্য চলচ্চিত্রের মূল থিমকে সমৃদ্ধ করেছে। রত্নমের পরিচালনায় ছবির কাঠামো এবং চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ককে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
‘যুবা’কে সময়ের সাথে সাথে একটি কাল্ট স্ট্যাটাস অর্জন হয়েছে, বিশেষ করে এর বর্ণনামূলক গঠন, এ. আর. রহমানের সুর এবং অভিষেক বচ্চনের লাল্লান সিংহের রোলকে উল্লেখযোগ্য করে তোলা হয়। এই চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ছবির সঙ্গীত, যা আর. রহমান রচনা করেছেন, আজও তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং চলচ্চিত্রের আবেগময় পরিবেশকে সমর্থন করে।
চলচ্চিত্রের অধিকার বর্তমানে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে রয়েছে, যা পুনঃপ্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করেছে। পিভিআর ইনক্সের সামাজিক মিডিয়া পেজে ছবির পুনরায় প্রদর্শনের তথ্য শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দর্শকদের আগামি শোয়ের সময়সূচি এবং টিকিট বুকিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে, সঞ্জয় লীলা ভাঁসালির প্রযোজিত নতুন রোমান্টিক ছবি ‘দো দিভানে সেহেরে মেইন’ও বড়পর্দায় আসছে। এই ছবিতে সিদ্দান্ত চতুর্ভেদি এবং ম্রুনাল ঠাকুর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন। দুই চলচ্চিত্রের একই দিনে মুক্তি দর্শকদের জন্য একটি জেনারেশনাল মুখোমুখি তৈরি করবে; একদিকে ২০০৪ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার, অন্যদিকে নতুন প্রেমের গল্প।
বক্স অফিসের দৃষ্টিকোণ থেকে, ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ব্যস্ত দিন হবে, যেখানে পুরোনো ক্লাসিক এবং নতুন রিলিজের মধ্যে দর্শকের পছন্দ পরীক্ষা হবে। ‘যুবা’র পুনঃপ্রদর্শন তরুণ প্রজন্মকে ২০০০-এর দশকের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, আর ‘দো দিভানে সেহেরে মেইন’ আধুনিক রোমান্সের স্বাদ প্রদান করবে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উভয় ছবির জন্য টিকিট অগ্রিম বুকিং করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে শোয়ের সময়সূচি মিস না হয়। পিভিআর ইনক্সের বিভিন্ন শাখায় একই দিনে একাধিক স্ক্রিনে এই দুইটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যা সিনেমা হলের পূর্ণতা নিশ্চিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, ‘যুবা’র পুনঃপ্রদর্শন চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এবং এশা দেোলের ব্যক্তিগত সংযুক্তি এই উদ্যোগকে আরও উজ্জ্বল করেছে। একই সঙ্গে নতুন রোমান্টিক ছবির মুক্তি শিল্পের বৈচিত্র্য এবং দর্শকের বিভিন্ন রুচি পূরণে সহায়ক হবে।
সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে ইচ্ছুক সকলকে পিভিআর ইনক্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে।



