মিরপুর‑১০ নম্বর গোল চত্বরের পাশে অবস্থিত ফলপট্টি মসজিদ গলিতে রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গলির দু’পাশে সারি সারি দোকান সাজানো দেখা যায়, যেখানে ক্রেতাদের ভিড় নিয়মিত প্রবাহিত হয়।
দোকানগুলোতে পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢাকা রকমারি খেজুরের বাক্স সাজানো হয়েছে এবং কিছু বিক্রেতা ফুটপাতের ওপরেও সাময়িক স্টল স্থাপন করে বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি স্টলে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির খেজুর সাজানো থাকে, যা ক্রেতাদের পছন্দের ভিত্তিতে বিক্রি হয়।
বিক্রেতাদের মতে, বাজারে প্রায় চল্লিশটি ভিন্ন প্রজাতির খেজুর পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম এবং আজোয়া। এই প্রজাতিগুলো রমজানের উপবাসের সময় বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
খেজুরকে শক্তি সরবরাহকারী ফল হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ উচ্চ। এছাড়া এতে আয়রনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য, যা অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য উপকারী। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ উল্লেখ করেন, “খেজুরের নিয়মিত সেবন রক্তাল্পতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।””,
“বিক্রেতা রিনা আক্তার, ৪৫ বছর বয়সী একজন শিক্ষক, সম্প্রতি সুক্কারি ও আজোয়া প্রজাতির খেজুর কিনেছেন। তিনি জানান, আজোয়া খেজুরের দাম প্রতি কেজি প্রায় এক হাজার টাকা, আর সুক্কারির দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। তিনি সীমিত বাজেটের কারণে ছোট পরিমাণে কেনা শেষ করে আবার প্রয়োজন হলে পুনরায় ক্রয় করবেন।
সুক্কারি খেজুরের স্বাদ তুলনামূলকভাবে মিষ্টি, যা অনেক গ্রাহকের প্রিয়। মাঝারি আকারের এই প্রজাতির রঙ সামান্য বাদামি, এবং এর দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আজোয়া খেজুরের রঙ কিছুটা গাঢ়, দাম প্রতি কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশো টাকা, যা ইফতার সমাবেশে বিশেষভাবে চাহিদা পায়।
কম দামের বিকল্প হিসেবে জাহিদি ও বরই খেজুরের চাহিদা বেশি। জাহিদি খেজুরের দাম প্রতি কেজি মাত্র ২৫০ টাকা, আর বরই খেজুরের দাম ৫৫০ টাকা, ফলে সীমিত আয়ের গ্রাহকরা এগুলোকে পছন্দ করেন। এই সাশ্রয়ী মূল্যের প্রজাতিগুলো রমজানের দৈনিক ইফতার খাবারে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।
রমজানের আগমনে খেজুরের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, ফলে বিক্রেতারা পণ্যকে ফুটপাতে স্থাপন করে দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে তোলেন। উচ্চ চাহিদা সত্ত্বেও দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, কারণ সরবরাহকারী ও বিক্রেতারা মৌসুমী উৎপাদন ও গুদামজাত পণ্যের সমন্বয় করে বাজারে সাপ্লাই বজায় রাখেন।
বাজারে প্রায় চল্লিশটি ভিন্ন প্রজাতি থাকা সত্ত্বেও, দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এই প্রজাতিগুলোর দাম ও চাহিদা রমজানের শেষের দিকে বিশেষভাবে বাড়ে, যখন পরিবারগুলো ইফতার ও সেহরির জন্য বড় পরিমাণে খেজুর সংগ্রহ করে।
বিক্রেতারা উল্লেখ করেন, রমজানের সময় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও পছন্দের বৈচিত্র্য বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়। উচ্চমানের আজোয়া ও মাবরুমের দাম বেশি হলেও, সাশ্রয়ী জাহিদি ও বরই প্রজাতি অধিক সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। ফলে বাজারে দামের স্তর বিভিন্ন গ্রাহক গোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত থাকে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে রমজান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় চক্র, যেখানে খেজুরের চাহিদা শীর্ষে পৌঁছায়। বিক্রেতারা এই সময়ে স্টক বাড়িয়ে রাখেন এবং সরবরাহ চেইনের দক্ষতা বাড়াতে লজিস্টিক্সে মনোযোগ দেন। তবে, যদি উৎপাদন বা পরিবহন ব্যাহত হয়, দাম দ্রুত বাড়তে পারে, যা গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা বিবেচনা করলে, রমজান শেষ হওয়ার পরও খেজুরের চাহিদা কিছুটা অবশিষ্ট থাকবে, তবে দাম হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে সঠিক স্টক ম্যানেজমেন্ট এবং বিভিন্ন প্রজাতির সমন্বিত সরবরাহ, যাতে মৌসুমী চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি না থাকে।
সারসংক্ষেপে, মিরপুরের ফলপট্টি গলিতে রমজানের সময় খেজুরের বিক্রি ও দাম উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় চল্লিশটি প্রজাতি উপলব্ধ থাকলেও, দাবাস, মাবরুম, বরই, সুক্কারি, মরিয়ম ও আজোয়া সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে এক হাজার দুইশো টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা বিভিন্ন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রমজান শেষে বাজারের চাহিদা হ্রাস পেলে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সঠিক সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখলে বিক্রেতারা লাভজনক ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।



