জাতিসংঘের একটি তদারকি মিশন সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ডারফুরের পশ্চিমাঞ্চলীয় এল‑ফাশার শহরে রাপোর্টার্স স্যানফ্রন্টিয়ার্স (RSF) কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে গেনোসাইডের লক্ষণ দেখা গেছে। এই শহরটি অক্টোবরের শেষের দিকে ১৮ মাসের অবরোধের পর RSF দখল করে, যা দেশের প্রায় তিন বছরের গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম পর্যায়গুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মিশনের বিশেষজ্ঞ মন রিশমাওই উল্লেখ করেন, “আমরা যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি—দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ, ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানবিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান, তারপরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া, সিস্টেমেটিক অপমান এবং অপরাধীদের নিজস্ব স্বীকারোক্তি—একটি স্পষ্ট উপসংহার দেয়। RSF ইল‑ফাশারের জাগা ও ফুর সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করেছে। এগুলো গেনোসাইডের মূল বৈশিষ্ট্য।”
প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তত তিনটি গেনোসাইডের মৌলিক কাজ সম্পাদিত হয়েছে: সুরক্ষিত জাতিগত গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা, এবং এমন জীবনযাত্রার শর্ত আরোপ করা যা গোষ্ঠীর শারীরিক ধ্বংসের উদ্দেশ্য বহন করে। এই কাজগুলো জাগা ও ফুর সম্প্রদায়ের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে গেনোসাইডের স্পষ্ট উদাহরণ।
ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়েভেট কোপার এই ফলাফলকে “অত্যন্ত ভয়ানক” বলে উল্লেখ করে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই উপসংহার উপস্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত চালু করা, শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষকে ত্বরান্বিত করা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি।
সুদানের গৃহযুদ্ধ এপ্রিল ২০২৩-এ নিয়মিত সেনাবাহিনী ও RSF-এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই থেকে শুরু হয়, যেখানে পারামিলিটারি বাহিনীর নিরাপত্তা কাঠামোতে সংযোজনের প্রশ্নই মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের সাথে সাথে এই সংঘাত দেশীয় ও আঞ্চলিক স্তরে বিস্তৃত হয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইল‑ফাশারের অবরোধের সময় মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় বসবাস করতে বাধ্য হয়। অবরোধের শেষের দিকে, শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটকে তীব্র করে, যা গেনোসাইডের শর্ত পূরণে সহায়তা করে।
RSF এই প্রতিবেদনের পূর্বে গেনোসাইডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পূর্বের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে RSF-কে গেনোসাইডের দায়ী হিসেবে গণ্য করার চাপ বাড়ছে।
জাতিসংঘের তদারকি মিশনের এই উপসংহার আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। গেনোসাইডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে, নিরাপত্তা পরিষদে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ, যেমন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, আরোপিত হতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।
এই ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব দেশগুলো ইতিমধ্যে মানবিক সাহায্য ও শরণার্থী সুরক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা রাপোর্টার্স স্যানফ্রন্টিয়ার্সের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং গেনোসাইডের শিকারদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
অবশেষে, ইল‑ফাশারের গেনোসাইডের প্রমাণ সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া, আইনি প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তার গতি নির্ধারণ করবে যে, এই ভয়াবহ ঘটনার পরিণতি কীভাবে মোকাবেলা করা হবে এবং ভবিষ্যতে একই রকম অপরাধ রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



