মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে মূল বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে গেইটস ফাউন্ডেশন আজ (বৃহস্পতিবার) জানিয়ে দিল যে গেটসের ভাষণ বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘এপস্টাইন ফাইল’ এ গেটসের নাম উঠে আসা উল্লেখ করা হয়েছে।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিটটি ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও ও সিটিওকে একত্রিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য।
গেইটস ফাউন্ডেশন প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনের মূল অগ্রাধিকার এবং সকল অংশগ্রহণকারীর স্বার্থ বিবেচনা করে গেটসের উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। তাই তিনি মূল বক্তব্য দেবেন না, তবে অন্যান্য সেশন চলবে।
বক্তব্য বাতিলের পরেও গেইটস ফাউন্ডেশন জোর দিয়ে বলেছে যে ভারত ও আফ্রিকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই প্রতিশ্রুতি ফাউন্ডেশনের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের অংশ।
সামিটের মূল সেশনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এআই নীতিমালা, ডেটা সুরক্ষা এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটের মতো গ্লোবাল টেক জায়ান্টের সিইওরাও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করবেন।
গেটসের পরিবর্তে গেইটস ফাউন্ডেশনের আফ্রিকা ও ভারত কার্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ফাউন্ডেশনের এআই সম্পর্কিত উদ্যোগ, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা তুলে ধরবেন।
গেইটস ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইকে টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রচার করেছে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, রোগ নির্ণয় ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করা তাদের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে।
বিল গেটস নিজে গত দশকে এআই গবেষণা ও নীতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মাইক্রোসফটের বিভিন্ন এআই প্রকল্পে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এআই নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
গেটসের উপস্থিতি না থাকলেও সামিটের প্রোগ্রাম পরিবর্তন হয়নি। অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তা ও প্যানেলিস্টদের মাধ্যমে এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা হবে, যা নীতি নির্ধারক ও শিল্প নেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
এই বছরের এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের থিম ‘এআই ও সমাজের সমন্বয়’। সেশনগুলোতে ডেটা গোপনীয়তা, অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা এবং কর্মসংস্থান প্রভাব নিয়ে বিশেষ সেশন থাকবে। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবিক কেস স্টাডি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন।
বিশ্বব্যাপী এআই নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় ভারতও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়। সামিটের মাধ্যমে দেশীয় স্টার্টআপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে এআই নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গেটসের ভাষণ বাতিল হলেও গেইটস ফাউন্ডেশন এআই ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য বজায় রেখেছে। সামিটের মূল আলোচনাগুলো দেশের প্রযুক্তি পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে এআইকে সঠিক পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত।



