32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধজানুয়ারি মাসে সড়কে ৪৮৭ জনের মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শীর্ষে

জানুয়ারি মাসে সড়কে ৪৮৭ জনের মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শীর্ষে

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে; এ সংখ্যার মধ্যে মোটরসাইকেল সম্পর্কিত ঘটনার অংশ সর্বোচ্চ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা একা দেশের সড়ক নিরাপত্তা সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মোট ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৪০.২৪ শতাংশের সমান, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ওজনকে স্পষ্ট করে।

সামগ্রিক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল জড়িত ঘটনার অনুপাত ৩৭.২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সড়ক দুর্ঘটনার এক তৃতীয়াংশের বেশি এই দুইচাকার গাড়ির সঙ্গে যুক্ত।

পথচারীর ক্ষতিও উদ্বেগজনক; জানুয়ারিতে ১৩২ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ২৭.১০ শতাংশ গঠন করে। চালক ও সহচালকের মৃত্যুর সংখ্যা ৬৭ জন, যা মোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

দুর্ঘটনার সময়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালবেলা ঘটনার হার সর্বোচ্চ, মোট ঘটনার ২৬.৬৫ শতাংশ সকালেই ঘটেছে। রাতের সময় ২৩.৬১ শতাংশ এবং দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনার সংখ্যা সর্বোচ্চ, মোট ১৪৩টি ঘটনার মধ্যে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের মোট মৃত্যুর ২৪.৪৩ শতাংশের সমান। ঢাকা বিভাগের এই উচ্চ মৃত্যুহার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।

সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, মাত্র ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য বিভাগে ঘটনার হার ভিন্ন হলেও মোটমাটিই সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে।

রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এই সংখ্যা শহুরে সড়ক ব্যবস্থার চাপ ও যানবাহনের ঘনত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক অবস্থা, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত বেতন ও কাজের সময়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারিতে গড়ে দৈনিক মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে; ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়ে ১৯.৬১ জনের মৃত্যু হলেও, এই বছর তা ১৫.৭০ জনে নেমে এসেছে, যা প্রায় ১৯.৯৩ শতাংশের হ্রাস নির্দেশ করে।

তবে সংস্থা উল্লেখ করেছে যে এই হ্রাস দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির সূচক নয়; সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত বেতন ও কাজের সময় নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, প্রযুক্তি-ভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও নিরাপদ সড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনা তথ্য সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে; সংশ্লিষ্ট নীতি ও বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করা জরুরি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments